
আসন বণ্টন নিয়ে তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যে জরুরি বৈঠক বসেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি নেই। বৈঠকে থাকা একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পেলে শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আভাস দিয়ে রেখেছিল ইসলামী আন্দোলন।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। সেখানো জানানো হয়েছে, আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয় নাই, বহুমাত্রিক আলোচনা এখনো চলছে।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের একবক্স নীতিকে ভিত্তি করে যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথচলা শুরু হয়েছিলো তা জাতির মনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সেই পথচলায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসে নাই। নেতারা বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত কিছু বলার মতো অবস্থা তৈরি হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অপরাপর দলসমূহ আনুষ্ঠানিভাবেই জাতিকে অবহিত করবেন।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে ইসলামী এই দলটির পক্ষ থেকে।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ এই বার্তা পাঠিয়েছেন।
এদিকে আজকের বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তাতে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা আছেন।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি), জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সমঝোতার আলোচনায় থাকা ১১ দলে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে অবিশ্বাস ক্রমেই বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জামায়াতের আসন সমঝোতা হয়নি। ইসলামী আন্দোলনের দাবি, তাদের অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়েছে। এমনকি কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই তাদের ওপর অন্যায্য সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ১১ দলের জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা-অন্তত ১২০টি আসনে তারা তাদের দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে এককভাবে নির্বাচন করবেন। কিন্তু জামায়াত তাদের ৪২টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ। একইভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অন্তত ২৭টি আসনে ছাড় চায়। তা না হলে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা তাদের দলীয় প্রতীক রিকশা নিয়ে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর কথা জানিয়েছেন। জামায়াত এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০টি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা জানায়। এর বাইরে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে কোনো আসন ছাড়তে রাজি হয়নি জামায়াত। ফলে এই তিন দলও জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা জানায়। সূত্র বলছে, সমঝোতা না হলে শেষ পর্যন্ত জামায়াত ছাড়া অন্যান্য ইসলামি দল মিলে একটি পৃথক নির্বাচনি জোট হতে পারে।












































