
বরিশালের উজিরপুরে ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষককে বাজারে আটকে পিটিয়েছে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার শিক্ষকের নাম উত্তম কুমার। তিনি উপজেলার হারতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। তাকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় অভিযুক্তরা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হামলার শিকার শিক্ষক উত্তম কুমার বলেন, তিনি বিকেলে বাজারে গেলে দক্ষিণ হাতাটা গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে বাদশা তালুকদার, মহিউদ্দিন তালুকদারের ছেলে রিয়ান তালুকদার, মো. আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন আমার ওপর অতর্কিত হামলা করে আমাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মের অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক উত্তম কুমার বলেন, ওই তরুণী আমার ছাত্রী না। উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। একটি ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে আমাকে মারধর করা হয়েছে।
হারতা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম ফরাজী বলেন, শিক্ষক উত্তম আমার বন্ধু। গত দুদিন আগে সে আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে মেয়েসংক্রান্ত ঝামেলার বিষয়টি জানায়। শনিবার ঘটনার কিছুসময় আগে হারতা বাজারে আমাদের দেখা হয়। উত্তমসহ আমরা একটি দোকানে দাঁড়িয়ে চা পান করি।
ফরাজী আরও বলেন, উত্তম তার ঝামেলার বিষয়ে স্থানীয় একটি বিএনপি নেতার সাথে দেখা করার কথা বলে চলে যায়। একটু পরেই ডাক-চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখি একটি দোকান ঘরে তাকে মারধর করছে ছাত্রদলের কিছু ছোট ভাই। আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তমকে রক্ষা করি। ওকে রক্ষা করতে গিয়ে আমি নিজেও আহত হয়েছি।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি আমি দেখেছি। ঘটনাস্থল যৌথবাহিনী পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।








































