প্রচ্ছদ জাতীয় কক্সবাজার যাওয়ার সময় মাকে যা জানিয়েছিল জান্নাতুন তাজমীন

কক্সবাজার যাওয়ার সময় মাকে যা জানিয়েছিল জান্নাতুন তাজমীন

কুমিল্লায় জান্নাতুন তাজমীন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সামনে এসেছে তার কক্সবাজার যাত্রার তথ্য। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী রাজু চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিল ওই কিশোরী। কক্সবাজার যাওয়ার কথা মাকে না জানিয়ে সে বলেছিল, এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।

তাজমীন কীভাবে কক্সবাজার গিয়েছিল, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত জানিয়েছেন তার মা কেয়া খাতুন।

কেয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমীন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। এ জন্য বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমীন কিছু জানায়নি।নতুন ভাষা শিখুন

মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খোঁজ রাখারও চেষ্টা করতেন। তবে এত সতর্কতার পরও মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি বলে আক্ষেপ তার।নতুন ভাষা শিখুন

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাজমীনের মা যে বান্ধবীকে সন্দেহ করছেন, তিনি বয়সে তাজমীনের চেয়ে বড়। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবী বা তার পরিচিতদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাজমীন মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল বলেও জানান কর্মকর্তারা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একমাত্র ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা বাসে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানে নামে তাজমীন। এরপর নগরের রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে। চালক সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।