
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কাভার করতে চাওয়া প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সিস্টেম থেকে সাংবাদিকদের এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বরসহ আবেদনের কপি উন্মুক্ত হয়ে যায়। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এবারের নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনে ইসি। এবারই প্রথম সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার পেতে অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে সাংবাদিকদের তোপের মুখে এই সিদ্ধান্ত থেকে গত বৃহস্পতিবার সরে এসে আগের মতোই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় নাসির উদ্দীন কমিশন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক কার্ড ও স্টিকার পেতে ইসির অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করেন। তবে এই ১৪ হাজার সাংবাদিকের সব তথ্য ইসির ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে উন্মুক্ত হয়ে যায়। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ইসির ওয়েবসাইটে ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ওয়েবসাইট pr.ecs.gov.bd-এর মাধ্যমে উন্মুক্ত হয়ে যায়।
ইসির নির্ধারিত এই ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিকেল ৪টার পর কেউ লগইন করে ওয়েবসাইটে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই ১৪ হাজার সাংবাদিকের আবেদনের তালিকা হোম পেজে চলে আসছে। ওয়েবসাইটের হোম পেজে তালিকা আসার পাশাপাশি আবেদনকারীর নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং সম্পূর্ণ আবেদন ওপেন করার অপশন চলে আসে। তবে কিছু সময় পর আর ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যায়নি।
নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকরা জানান, তাদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করেই নির্বাচন করতে অনলাইন সিস্টেম চালু করে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা। পরে গত বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাংবাদিকরা বৈঠক করে আলটিমেটাম দিলে ইসি অনলাইন সিস্টেম থেকে সরে এসে আগের পদ্ধতিতে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার আগেই উল্লিখিত সংখ্যক সাংবাদিক অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখেন। এসব সাংবাদিকের তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অনলাইন সিস্টেম শুক্রবার বন্ধ করে দিয়েছি। গতকাল বিকেলে ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনের দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনি ওপেন করেছিলেন। এ সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়তো তথ্যগুলো উন্মুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন ওয়েবসাইট বন্ধ আছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন












































