প্রচ্ছদ জাতীয় আজ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে

আজ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে

আজ রবিবার বিকেল ও সন্ধ্যায় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পৃথক পৃথক সময়ে তাদের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক হবে। এই বৈঠকে শুধু রাজনীতি নয়, শুধু নির্বাচন নয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরও ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ।

শনিবার নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘ভয়েস বাংলা’-এর এক ভিডিওতে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল (আজ রবিবার) তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দল তিনটি হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি।’

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনা এবং নির্বাচন পরিস্থিতি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন মোস্তফা ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘এই সবগুলোর পেছনে একটাই উদ্দেশ্য যে নির্বাচনের একটা যে সুন্দর-সুষ্ঠু পরিবেশ হবে, নির্বাচনমুখী আবহাওয়া গড়ে উঠবে, সেটা যাতে না হয়।

কারণ বিভিন্ন দলের নানা রকম দাবি আছে, প্রস্তাব আছে, সেগুলো যদি এখন সামনে আনা হয় যেহেতু পরস্পরবিরোধী এগুলোর সঙ্গে বিএনপির দ্বিমত আছে—বিএনপির প্রস্তাবের সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির দ্বিমত আছে। সব কিছু ফয়সালা হবে ভোটের মাঠে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাঠে খেলোয়াড় হচ্ছে তিনটা। তরুণদের দল এনসিপি আর ধর্মভিত্তিক দলদের প্রধান হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।

আর গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রধান হচ্ছে বিএনপি। সুতরাং ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানেন যে এই তিনটা দলের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি সমাধান হবে। আর যদি যার যার অবস্থান অনড় থাকে তখন ভিন্ন পরিস্থিতি। তখন এমন হতে পারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস অস্বস্তি বোধ করতে পারেন—বলতে পারেন; না, বাবা আমি তো এগুলোর মধ্যে নেই। তাহলে আমি বিদায় হই তোমরা যা খুশি তা-ই করো।

সেটা ভালো হবে কি না ভেবে দেখতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে।’

মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘একটা বড় ভুল হয়ে গেছে। কোনটা জানেন? উচিত ছিল যখন নাকি ওয়াকার (সেনাপ্রধান) বললেন যে আপনারা কী করবেন? জাতীয় সরকার করবেন নাকি কী করবেন? তখন রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিল না জাতীয় সরকার না। অন্তর্বর্তী সরকার হবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরকে দিয়ে। তো তখনই উচিত ছিল, মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া।’

তিনি আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারও এসে মনে করল এটা একটা গণ-অভ্যুত্থানের সরকার। এটার মানে এটার একটা বৈধতা আছে। সুতরাং আমরা চালাইতে থাকব। কিন্তু এটা তো চলবে না। আপনার তেল-মবিল ছাড়া, ইঞ্জিন ছাড়া গাড়ি চলে? চলে না। তো তেল-মবিল কোথায়? রাজনৈতিক দল কোথায়? রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কোথায়? আপনাকে ওই শেখ হাসিনার লটবহর নিয়ে আপনি চলতে পারবেন? পারবেন না। এটা এখন পদে পদে প্রমাণিত হচ্ছে। সুতরাং আগামীকাল (আজ) আমি মনে করি শুধু রাজনীতি নয়, শুধু নির্বাচন নয়, ড. ইউনূসের হয়তো ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।’