
কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ছাত্রদের মৃত্যুর দায় স্বীকার করেছেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল সোমবার বিজেপিঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘খোলা হাওয়া’ আয়োজিত একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এই ঐতিহাসিক দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। দীর্ঘ আধা ঘণ্টার বক্তৃতায় তিনি যেমন অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন, তেমনি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে দিয়েছেন কড়া হুঁশিয়ারি।
সজীব ওয়াজেদ জয় স্পষ্টভাবে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য ছিল এবং বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান করতে না পারা সরকারের একটি ব্যর্থতা। তবে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার সরকার বা পুলিশ আগ বাড়িয়ে সংঘাত শুরু করেনি; বরং আন্দোলনের আড়ালে থাকা কট্টরপন্থি ও জঙ্গিরাই থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে সহিংস করে তুলেছিল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জয় মন্তব্য করেন যে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে এবং অন্যান্য প্রগতিশীল দলকে কোণঠাসা করে এই ভোট একটি ‘একতরফা প্রহসন’ হতে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এটি এখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার এক দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হতে যাওয়া এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি বড় ধরনের প্রশ্ন তোলেন।
ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জয় দাবি করেন, বর্তমানে বিএনপি আমেরিকার হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে এবং জামায়াত ও পাকিস্তান নেপথ্য থেকে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জামায়াত সরাসরি ক্ষমতায় না থাকলেও পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়বে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ হত্যার দায়ভারও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র : জনকণ্ঠ












































