
রংপুর নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘দ্য স্কাইভিউ’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তার অভিযোগ, নির্বাচন কার্যত একটি দলীয় প্রভাবের মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এনসিপিকে সরকারি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমন্বয়ে একটি কার্যকর জোট গড়ে উঠেছে।
জি এম কাদের বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচনগুলো দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অতীতে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়েই আবার একই ধরনের ব্যবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা কমছে। গণমাধ্যমেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির কর্মসূচি ও বক্তব্য যথাযথভাবে প্রচার করা হচ্ছে না, বরং কিছু নির্দিষ্ট দল বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের মিছিল-মিটিংয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে, হল ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না এবং স্বাভাবিক প্রচারণাও নির্বিঘ্নে চালানো যাচ্ছে না। প্রশাসনিক প্রটোকলের অপব্যবহার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জি এম কাদের বলেন, নীলফামারী ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কর্মী-সমর্থকেরা আহত হয়েছেন এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়েছে। পাশাপাশি দলের কয়েকজন প্রার্থী এখনো কারাবন্দি রয়েছেন, যা নির্বাচনের পরিবেশকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে তার মন্তব্য।
এমন পরিস্থিতিতেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ অনুকূল না হলেও অনিয়ম ও বৈষম্যের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতেই তারা মাঠে রয়েছে। তার আশা, ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে জাতীয় পার্টি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি।










































