
পুলিশের একটি অভিযানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহারের দাবিতে থানায় অবস্থান নিয়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকের নেতৃত্বে তারা থানা প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা আতাতুর্ক মডেল হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও জামায়াতের কর্মী মাস্টার আবদুর রহিমের বাড়িতে ব্যালট পেপার রয়েছে— এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে অভিযানে অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে পুলিশি তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ তুলে ফেনী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মেজবাহ উদ্দিন সাঈদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা থানা প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। এ সময় তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম ও উপপরিদর্শক বলরামকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, দাগনভূঞা থানার ওসি বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের কর্মী আতাতুর্ক স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাস্টার আবদুর রহিম ও মহিলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের বাসা-বাড়িতে তল্লাশির নামে হয়রানি করেছেন। তিনি বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও জামায়াতের ভোট নষ্ট করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। এই ওসি লক্ষ্মীপুরের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গেও গোপনে বৈঠক করেছেন। এমনকি ফেনীতে বিএনপি নেতা তারেক রহমান এলে তার সঙ্গেও দেখা করেছেন। নির্বাচনী মাঠে এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ ও হয়রানির কারণে আমরা তার প্রত্যাহারের দাবিতে ইতোমধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও আবেদন জানিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে থানায় জামায়াত নেতাকর্মীদের অবস্থানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আতাতুর্ক স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাস্টার আবদুর রহিমের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রাপ্ত তথ্যটি ভুল ছিল। এ কারণে পুলিশের অভিযানে আপনারা মনঃক্ষুণ্ন হয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী মাঠে পক্ষপাতিত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর থেকে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দাগনভূঞা থানায় দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ দেবেন। সকলের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি।












































