প্রচ্ছদ জাতীয় এবার র’ণ’ক্ষেত্র নরসিংদী, ব্যাপক গু’লিবর্ষণ

এবার র’ণ’ক্ষেত্র নরসিংদী, ব্যাপক গু’লিবর্ষণ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুস্তাকিম সায়দাবাদ গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘হানিফ মাস্টার’ গ্রুপ ও ‘এরশাদ মিয়া’ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার সকাল ৬টার দিকে বালুচর গ্রাম থেকে এরশাদ গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সায়দাবাদ গ্রামে হানিফ মাস্টারের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে এবং কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বসতবাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা কিশোর মুস্তাকিম সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।

সংঘর্ষের সময় আগুনে অন্তত ৪টি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। গুলিবর্ষণ ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে গ্রেপ্তার এড়াতে আহতরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, মুস্তাকিমের শরীরের বাম পাশে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ নিশ্চিত করা হবে।

নিহতের মা শাহানা বেগম আহাজারি করে বলেন, আমার ছেলে কোনো দলের সঙ্গে ছিল না। স্থানীয় সাবেক মেম্বার ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চাইনা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।

এদিকে সায়দাবাদ গ্রামবাসীর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একপাক্ষিক অভিযানের সুযোগ নিচ্ছে প্রতিপক্ষ। তাদের দাবি, পুলিশ কেবল সায়দাবাদ গ্রামেই অভিযান চালায়, যার ফলে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বালুচর গ্রামের সন্ত্রাসীরা এসে অবাধে হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।