
এআই প্রযুক্তি একদিন শুধু দেশে নয়, গোটা পৃথিবীতে বড় ধরনের গ্যাঞ্জামের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হয়তো এমন সময় আসবে, যখন হাজারো মানুষকে নির্দোষ থেকেও দোষী প্রমাণ করা হবে আর দোষী থেকেও নির্দোষ বানানো হবে। এ সুযোগে আসল বিষয়টাই হারিয়ে যাবে। পাথর নিয়ে সেই সন্ধিক্ষণেরই নমুনা। কারবারিরা যা করার করেছে। পাথর লুট চলছে আরও আগে থেকেই। এই পাথর উত্তোলনকারীরা এটা করার আগে মাসব্যাপী ঢাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর পার্টি অফিসে গিয়ে ঘোরাফেরা করেছে। কমবেশি কামিয়াবিও হয়েছে
এবারের শোকের মাসটা হাঁস-পাথরেই যাবে বলে সমূহ আলামত। পাথর-আতর, হাঁস-বাঁশের মৌসুম থাকে। বিশেষ প্রাণীর বিশেষ কাজের শ্রাবণ-ভাদ্রতে হাঁস প্রাসঙ্গিক নয়। তার ওপর আগস্ট মাস। এ মাসটি কারও শোক, কারও সুখসহ রাজনৈতিক নানা ঐতিহাসিক ঘনঘটার মাইলস্টোন। পঁচাত্তরের আগস্ট ট্র্যাজেডির পূর্বাপরে গরমের তীব্রতার মধ্যেও কিছুদিন হাঁস ছিল বেশ প্রাসঙ্গিক। সচরাচর শীতের তীব্রতার মধ্যে আয়েশ করে হাঁস খাওয়ার একটি চল ছিল এবং আছে বাঙালি সমাজে। বহুল প্রচারিত একটি মিথ আছে, ওই গরমের সময়েও খন্দকার মোশতাক মাঝেমধ্যেই হাঁস খাওয়াতেন তার বন্ধু মুজিব ভাই বঙ্গবন্ধুকে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বা তার আগের দিনও খাইয়েছেন। গরমের মধ্যে হাঁস খাওয়ার অস্বাভাবিকতা নিয়ে তখন নানা কড়া-মিঠা-অম্ল কথার ধুম চলেছে কিছুদিন।
সময়ের ব্যবধানে এত বছর পর আবার হাঁস বড় প্রাসঙ্গিক দেশের রাজনীতিতে। তবে প্রেক্ষিত ভিন্ন। এ ছাড়া হাঁস খাওয়া এখন ফ্যাশন। শীত লাগে না। শীত-গরম, ভাদ্র-আশ্বিন মানে না। বছরজুড়েই হাঁসের বাজার। সঙ্গে পিটার হাসের আলোচনাও পিছু ছাড়ছে না। গেল সপ্তাহেও তাকে নিয়ে কী হাইপই না চলেছে। এর মাঝেই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হাঁসকাণ্ড। সমান্তরালে পাথরও একটা বড় প্রসঙ্গ। রাজধানীর মিটফোর্ডে পাথর দিয়ে থেঁতলে যুবক সোহাগ হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কোয়ারির পাথর লুটের আচানক কাণ্ড। কীসের মধ্যে কী-এর মতো এক-একটা সাবজেক্ট ভর করছে রাজনীতিতে। যেন হাঁস-পাথরই বাংলাদেশের একমাত্র ঘটনা। অথবা হাঁসেই বাংলাদেশ, পাথরেই বাংলাদেশ।
নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ভিডিওতে জানে আলম বলেছেন, যেদিন সাবেক সংসদ সদস্যের বাসা থেকে তারা চাঁদার টাকা নিয়েছিলেন, সেদিন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে গুলশানের একটি জায়গায় তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেছেন, ওইদিন তিনি ওই এলাকায় গিয়েছিলেন কি না, বিষয়টি তার মনে নেই। চাঁদাবাজির ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া হেলমেট পরা ব্যক্তি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে হেলমেট পরা যে কাউকে যদি আমাকে বলে দাবি করা হয়, এটা কতটুকু আসলে বিশ্বাসযোগ্য।’
এসব নিয়ে কি এখন থাকার কথা ছিল? মানুষের দিন কাটছে কীভাবে? দেশ আছে কোথায়? যাচ্ছে কোনদিকে? রাজনৈতিক দলগুলোর কী নিয়ে ব্যতিব্যস্ততা? হাঁসে-বাঁশে থাকার সময় এখন? পাথরে নাম লেখা বা পাথরে ফুল ফোটানোর উন্মাদনাও সময়? উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া হাঁস খেতে যেতেই পারেন। কিন্তু গত এক বছরে আমার সামর্থ্য হলো না, আপনার হলো না, শুধু তার কীভাবে ওয়েস্টিনে নিয়মিত দলবল নিয়ে নাশতা করার সামর্থ্য হলো—প্রশ্নটা তো আসবেই। পাথর নিয়েও যা চলছে, তা শুধু হাস্যকর নয়, সামনে নানা বিপদের বার্তাও আছে। পুলিশ কর্তৃক পাথর উদ্ধার ও পাথর লুটপাটকারীদের আটকের ভুয়া ছবি কারও কারও কাছে বেশ উপাদেয়-উপভোগ্য। এআই প্রযুক্তি একদিন শুধু দেশে নয়, গোটা পৃথিবীতে বড় ধরনের গ্যাঞ্জামের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হয়তো এমন সময় আসবে, যখন হাজারো মানুষকে নির্দোষ থেকেও দোষী প্রমাণ করা হবে আর দোষী থেকেও নির্দোষ বানানো হবে। এ সুযোগে আসল বিষয়টাই হারিয়ে যাবে। পাথর নিয়ে সেই সন্ধিক্ষণেরই নমুনা। কারবারিরা যা করার করেছে। পাথর লুট চলছে আরও আগে থেকেই। এই পাথর উত্তোলনকারীরা এটা করার আগে মাসব্যাপী ঢাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর পার্টি অফিসে গিয়ে ঘোরাফেরা করেছে। কমবেশি কামিয়াবিও হয়েছে।
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন