প্রচ্ছদ জাতীয় শেষ মুহূর্তের যে ৩ ফ্যাক্টর বদলে দিতে পারে ভোটের ফল

শেষ মুহূর্তের যে ৩ ফ্যাক্টর বদলে দিতে পারে ভোটের ফল

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথমবারের মতো দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এবারের ভোট শুধু সরকার গঠনের প্রতিযোগিতা নয়; এটি সংবিধান সংশোধন ইস্যুতেও এক ধরনের গণভোট (রেফারেন্ডাম) হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুরুতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছে বলে ধারণা করা হলেও, শেষ মুহূর্তে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী উল্লেখযোগ্য চমক দেখাতে পারে। ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল ও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে সক্ষম।

১. দোদুল্যমান বা অনিশ্চিত ভোটারদের ভূমিকা:

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের একটি বড় অংশের ভোটার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তারা কাকে ভোট দেবেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের প্রথাগত ৩০–৪০ শতাংশ সমর্থক কোন রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলই এই বড় ভোটব্যাংক এবং তরুণ ভোটারদের নিজেদের পক্ষে আনতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘ফেন্স সিটার’ বা দোদুল্যমান ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। তারা যেদিকে ঝুঁকবেন, বিজয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

২. ভোটার উপস্থিতির হার (টার্নআউট):

নির্বাচন কমিশনের মক ভোটিংয়ে দেখা গেছে, সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হওয়ায় ভোট দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি সময় লাগছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে সেটি জামায়াতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর রিপোর্ট বলছে, যদি ভোটার উপস্থিতি ৬৫-৬৮ শতাংশ হয়, তবে বিএনপি জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু উপস্থিতি কমে ৫৩-৫৮ শতাংশে নামলে ক্যাডার-ভিত্তিক দল হিসেবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যেতে পারে।

৩. নারী ও বয়স্ক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে অনীহা:

ধীরগতির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সংঘাতের আশঙ্কায় নারী ও প্রবীণ ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হতে পারেন। নারী ভোটারদের মধ্যে ভোটের উৎসাহ গত কয়েক মাসে কমেছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে। যদি সহিংসতার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ঘরে থাকে, তবে ক্যাডার-ভিত্তিক সুশৃঙ্খল দল হিসেবে জামায়াত তাদের নিশ্চিত ভোটগুলো সংগ্রহ করে নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি:

আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখনও ৪২ শতাংশ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা পড়েনি, যা সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবুও রাজধানী ঢাকা এখন প্রায় ফাঁকা; ঈদের মতো মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ভোট দেওয়ার জন্য।

শেষ পর্যন্ত কি বিএনপি তাদের রাজপথের লড়াইয়ের ফসল ঘরে তুলতে পারবে, নাকি সুসংগঠিত জামায়াত ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেবে—তার উত্তর মিলবে আগামীকালের ব্যালট যুদ্ধে।