
আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী দেখা গেছে, ব্যবসায়ী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বার্ষিক আয়ের দিক থেকে দেশের অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে পিছনে ফেলেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী নুরের মোট বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা, যার মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা। তুলনায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ১৬ লাখ টাকা।
মোট সম্পদের দিক থেকে নুরের চেয়ে শীর্ষে আছেন অন্যরা। তারেক রহমানের মোট সম্পদ ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি, আর ডা. শফিকুর রহমানের মোট সম্পদ ১ কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা। নুরের মোট সম্পদ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা। সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা, কোম্পানি শেয়ারে বিনিয়োগ ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানত ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। জমির হিসাব অনুযায়ী, নুরের নামে ৮২ ডেসিমেল এবং তার স্ত্রীর নামে ৩ একর কৃষিজমি রয়েছে। দেনা ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা থাকলেও কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।
নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তার শিক্ষিকা; তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা এবং মোট সম্পদ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। নুরুল হক নুরের পরিবারে তিন সন্তান রয়েছে এবং বাবা-মা ও ভাই-বোন তার ওপর নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ আছে।
মামলা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নুরের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা চলমান, আগের আটটি মামলার মধ্যে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জোটগত সমঝোতার কারণে বিএনপি ওই আসনে প্রার্থী দেয়নি। এছাড়াও সাবেক বিএনপি নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং গণঅধিকার পরিষদের শহিদুল ইসলাম ফাহিম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি এবং নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে।
সূত্র : জনকণ্ঠ












































