
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শনিবার দুপুরে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের চৌদ্দগ্রামের নির্বাচনি সমাবেশ থেকে ফেরার পথে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিএনপি ও জামায়াত উভয়পক্ষ দাবি করেছে, প্রতিপক্ষ আগে হামলা চালিয়েছে।
আহতরা হলেন, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল, কাজী রাসেল ও রিফাত সানি ও বিএনপির নেতা সোলেমান চৌধুরী। তাৎক্ষনিক অপর আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের সমাবেশ শেষে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রাম এলাকায় পৌছলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দেখে বিভিন্ন ধরণের উসকানিমূলক কথা বলতে থাকেন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামালা চালায়। এ ঘটনায় আমাদের ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তবে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়ীতে জামায়াত শিবিরের নেতারা সমাবেশ করে ফেরার পথে আক্রমণ করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতারা এগিয়ে আসলে জামায়াত-শিবির পুনরায় তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমি ও আমার গাড়ী চালক আহত হই।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।









































