
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং ভোটাররা অন্য কোথাও ভোট দিলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে।
তবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর দাবি, ভিডিওটি কেটে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নিজের ফেসবুকেও পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে। ক্যাপশনে বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘আমার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের আংশিক অংশ কেটে শর্ট ক্লিপ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই বক্তব্যটি আমি আমার নিজ এলাকায়, আমার নিকট আত্মীয়দের সামনে ব্যক্তিগত আক্ষেপ থেকে বলেছিলাম। সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে একটি মহল আমাকে জড়িয়ে নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
আমি বিশ্বাস করি, সত্য কখনো চাপা থাকে না। জনগণ সব সময় সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে জানে। বিষয়টি জনগণের সামনে পরিষ্কার করার জন্য আমি আমার সম্পূর্ণ বক্তব্যটি তুলে ধরছি।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলতে দেখা গেছে, ‘ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। আপনাদের ঘরবাড়ি সব পুড়াইয়া ছাড়খার করে দেব। আমি কিন্তু কথাটা খুব পরিষ্কার বলে বলতেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা মনে করেন না আমি ভয় দেখাচ্ছি। আমি পরিষ্কার করে বলে দিছি। আমার কথা রেকর্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দিতে পারেন, আমার অসুবিধা নাই। আমি এটা মিন করতেছি।’
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলতে দেখা গেছে, ‘আমাকে যেন অপমানিত না হইতে হয়। আমি যদি অপমানিত হই…সেই অপমানের শোধ কিন্তু আমি ওইভাবেই নেব।’
এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ট্রাক মার্কায় ভোট চাইতে শোনা যায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী যে বক্তব্য দিয়েছেন এটি আমাদের দলীয় বক্তব্য নয়। একান্তই তার ব্যক্তিগত, এর দায়ভারও দলের নয়। এর পরও আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট চারজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ও জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ (শাপলা পলি), বিএনপি জোট প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের মো. জসিম উদ্দিন (ট্রাক), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার (আপেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল করিম (হাতপাখা)।











































