প্রচ্ছদ হেড লাইন বিপ্লবী ১৭ বছরের তাহরিমাকে ২১ বছর দেখিয়ে রিমান্ডে নিল পুলিশ!

বিপ্লবী ১৭ বছরের তাহরিমাকে ২১ বছর দেখিয়ে রিমান্ডে নিল পুলিশ!

ব্ল্যাকমেইল, মামলা-বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সুরভীর আইনজীবী রাশেদ খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে, আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) গাজীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সুরভীকে ২১ বছর বয়সী দেখিয়ে এই রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

তাহরিমা জান্নাত সুরভীর জন্ম সনদ অনুযায়ী এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তার। কিন্তু পুলিশ বলছে, মামলার এজাহারে বাদির দেওয়া তথ্যানুযায়ীই বয়সের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।

শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের রিমান্ড আবেদনের সুযোগ নেই। এমনকি এমন শিশুদের কারাগারেও থাকার কথা নয়। কিন্তু সুরভীর ক্ষেত্রে এটি মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তাহমিনা জান্নাত সুরভীর নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। মামলার এজাহারে সুরভী ২০ বছর বয়সী বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইদিন মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী প্রস্তুত করে পুলিশ।

এজাহারে সুরভীর পরিচয় সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও তথ্য বিবরণীতে সুরভীর পিতা, গ্রাম ও থানা উল্লেখ করা হয় ‘অজ্ঞাত’। এজাহারে উল্লেখ পিতা, গ্রাম ও থানা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক নিশ্চিত না হলেও বয়সের ক্ষেত্রে ভীন্ন চিত্র দেখিয়েছে পুলিশ।

কিন্তু গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ২০১৮ সালে নিবন্ধিত সুরভীর জন্ম সনদ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন সুরভী। সে অনুযায়ী, আজ সোমবার পর্যন্ত সুরভীর বয়স হয় ১৭ বছর ১ মাস ৭ দিন।

শিশু আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে রিমান্ডে নেওয়ারও সুযোগ নেই। শিশুসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে (কনভেনশন) স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শিশু আইনে এটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া ২০১৬ সালের একটি মামলায় একটি শিশুকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার শিশু আদালতের বিচারক রুহুল আমিন এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট আদেশ দিয়েছিলেন।

এছাড়া, শিশু আইনে অভিযুক্তের ক্ষেত্রে জামিনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে, পুলিশ সুরভীর বয়স বাড়িয়ে ২৬ ডিসেম্বর তাকে আদালতে উপস্থাপন করে। ফলে সুরভীর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ ডিসেম্বর গাজীপুরের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তাহরিমা জামান সুরভী। এরপরই পুলিশ সূত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়, ‘সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীকে জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আদায় করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তদন্তে উঠে আসে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তাহরিমা জামান সুরভীই ওই চক্রের মূল নেতৃত্বে ছিলেন। এই চক্রটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করেছে।’

ওই সময়ে মামলার বিবরণের সূত্র দিয়ে গণমাধ্যমে আরও বলা হয়, ‘গত বছরের জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করা হয়। আসামি বানানো, পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখানোর পাশাপাশি ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার প্রলোভনে চক্রটি বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করে এবং আদায় করে নেয়।’