প্রচ্ছদ জাতীয় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এনসিপির অবস্থান কী হবে, স্পষ্ট করলেন নাহিদ

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এনসিপির অবস্থান কী হবে, স্পষ্ট করলেন নাহিদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। সরকার গঠনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই জোটের নেতারা। তবে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আরোহণ করে সেক্ষেত্রে এনসিপির অবস্থান কেমন হবে, তা স্পষ্ট করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে যেকোনো সরকার গঠিত হলে আমরা তা মেনে নেব। সংস্কার গণভোটে পাস হলে এবং সরকার তা বাস্তবায়ন করলে আমরা স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করব। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। সেগুলো নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। কে ক্ষমতায় আছে, তার চেয়ে জাতীয় ঐক্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট এবং দলটির ভাবনার সঙ্গে এনসিপির মিল নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এটি মূলত নির্বাচনী সমঝোতা, আসনভিত্তিক সমন্বয়। তবে কিছু বিষয়ে আমাদের মিল আছে। বড় একটি বিষয় হলো বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কার। এ জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে গণভোট হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছি। যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করব। সংস্কার আমাদের অন্যতম প্রধান অ্যাজেন্ডা। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবাদের বিরোধিতা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান।’

জামায়াত-এনসিপি জোটের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নাহিদের বক্তব্য, ‘আমরা জোটের অংশ হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এনসিপি কতটি আসন পাবে, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ, আমরা নতুন দল, আগে কোনো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই। তবে আমরা আশাবাদী, এনসিপি ও জোট ভালো ফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।’

এই জোটের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব চায়। তথাকথিত অভিজ্ঞ দলগুলো, যেমন বিএনপি অতীতে খুব ভালো শাসন দিতে পারেনি। মানুষ ভিন্ন কিছু দেখতে চায়।’

প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। ‘একদিনে দুই ভোট’ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ এখন প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিজেদের নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা, ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ কার্যকরের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র রায় পেতে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার।

সুত্র: দ্য উইক।