
চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনের ১ হাজার ২৬ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের ছেলে ওমর ফারুক।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে জিতেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ।
ছেলের হারার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন কর্নেল অলি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেওয়া ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে কর্নেল অলিকে বলতে শোনা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে হাশিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাশিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার পর অপরিচিত কয়েকশ লোক প্রবেশ করে বাক্সে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ঢুকিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আড়াইটা থেকে তিনটার পর তার দলীয় নেতা–কর্মীদের কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় এবং মারধর করে বের করে দেয়। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদ ৬–৭টি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন এবং সন্ধ্যার আগে ও পরে প্রায় ৩০–৪০টি মাইক্রোবাস ও ট্রাক নিয়ে উপজেলা সদর এলাকায় মিছিল করেন। সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তাকে বাধা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় কর্নেল অলি বলেন, তার কর্মীদের সুশৃঙ্খল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা একতরফাভাবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তার ছেলে ও প্রার্থী ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের এজেন্টরা চ্যালেঞ্জ করলেও বাতিলের কারণ দেখানো হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে পরাজিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা যদি মনে করেন প্রফেসর ওমর ফারুক পরাজিত হয়েছে, ড. কর্নেল অলি আহমদ পরাজিত হয়েছে—আমরা পরাজিত হইনি। আল্লাহর মেহেরবানি, আমার নবীর দয়া—মুক্তিযোদ্ধা কখনো পরাজিত হয় না, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কখনো পরাজিত হয় না। পরাজিত হয়েছে টাকা এবং আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু লোক।
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে অনুরোধ করব অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দিন কাটাবেন। কারও সঙ্গে কোনো ঝগড়াঝাটির প্রয়োজন নেই। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি তার কর্মীদের ওপর হামলা চালালেও প্রশাসন নীরব রয়েছে। প্রশাসনের উচিত এলাকায় টহল জোরদার করা। ওমর ফারুকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রার্থী যারা এক থেকে দেড় হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছে—এটা সুপরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে।
পরিশেষে তিনি বলেন, আমি সারাজীবন মানুষের খেদমত করেছি। আমার এই খেদমত মরণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আমার ছেলে সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে। আমরা নির্বাচনে জিতলাম কি জিতলাম না—এতে কিছু আসে যায় না। জনগণের সেবায় আমি এবং আমার পরিবার সদা সর্বদাই নিয়োজিত থাকব। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের সুন্দর জীবন ও সাফল্য কামনা করি। সবাইকে বলব উশৃঙ্খলতা পরিহার করুন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ঘোষিত ফলাফলে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দল সমর্থিত ছাতা প্রতীকের ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।









































