
নেত্রকোনার দুর্গাপুর, কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, খালিয়াজুরি ও মদন উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি উপজেলাতে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল হক ও সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী।
এদিকে নেত্রকোনার মদন উপজেলা কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদ পেয়েছেন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান লিটন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মজিবুর রহমান লিটন বলেন, বিএনপিতে বড় পদ পেলে না হয় চাকরি ছেড়ে দিতাম।
গত ২১ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আনোয়ারুল হক ও সদস্য ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী স্বাক্ষরিত মদন উপজেলা বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে মজিবুর রহমান লিটনের নাম রয়েছে। গত শনিবার বিকালে কমিটি প্রকাশিত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. মজিবুর রহমান লিটন উপজেলার মদন দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির পদেও রয়েছেন। তিনি মদন উপজেলার মদন দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মজিবুর রহমান লিটন বলেন, পদ পাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পদের জন্য কারো কাছে তদবিরও করিনি। লোকমুখে শুনেছি যে, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে আমার নাম রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরে এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সভাপতির সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। আর সরকারি চাকরি করে দলীয় পদে থাকার নিয়ম নেই। বড় পদ পেলে না হয় চাকরি ছেড়ে দিতাম।
তিনি আরও বলেন, স্কুল সরকারি হওয়ার আগে দীর্ঘ বছর উপজেলা ছাত্রদল, পরে যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এখন যে পদে রাখা হয়েছে, এটা আমার জন্য অসম্মানজনক। কারণ আমার অনেক জুনিয়ররা এ কমিটির অনেক বড় বড় পদে রয়েছেন। এক্ষেত্রে আমি নিজে থেকে চেয়ে নিলে অবশ্যই বড় পদের জন্য বলতাম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সায়দা রুবায়াত বলেন, সরকারি চাকরিজীবীর কোনো দলীয় পদে থাকার নিয়ম নেই। আমাকে ফোনে অনেকে ওই শিক্ষকের দলীয় পদ পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। এখনো কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। কাগজপত্র পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম তালুকদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গত শনিবার এসব কমিটির অনুমোদন করা হলেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়। এরপর রোববার দুপুর থেকে কমিটিগুলোর তালিকা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
এর মধ্যে মদন উপজেলায় কমিটিতে সরকারি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাখা হয়। এছাড়া কেন্দুয়া উপজেলায় কমিটি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল মদন উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে নূরুল আলম তালুকদারকে সভাপতি এবং রফিকুল ইসলাম আকন্দকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘদিন পর গত বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মদন উপজেলার দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমানকে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাখা হয়। এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে ২০২২ সালে ২৮ মার্চ কেন্দুয়া উপজেলা সম্মেলনে জয়নাল আবেদিন ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মজিবুর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়। গত শনিবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করে জেলা কমিটি।