
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর অন্যতম ছিল ঢাকা-৮। ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফল ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা, অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ এবং নাটকীয় পরিস্থিতির পর শেষ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী পোস্টাল ব্যালটসহ ১০৯টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
ভোটের দিন সকালেই উত্তেজনার যাত্রা শুরু হয়। একটি কেন্দ্রে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে একটি ভোটকেন্দ্রে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়া হয় এবং তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনের রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে এ অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তাকে লক্ষ্য করে ধাওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
সন্ধ্যার পর গণনা শুরু হলে এনসিপির জনপ্রিয় প্রার্থী কারচুপির অভিযোগ তুলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দেন। তার সমর্থকেরা কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে ফলাফল প্রভাবিত না করার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত বিলম্বের অবসান ঘটিয়ে ফল ঘোষণা করা হলে মির্জা আব্বাস জয়ী হন। মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন।













































