
পূর্বাচলের ভোলানাথপুরের ‘নীলা মার্কেট’ এখন মুখরোচক খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এই মার্কেটটির এমন নামকরণ কেন হলো, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেত্রীর গল্প।
মার্কেটটি যে জায়গায় গড়ে উঠেছে, একসময় তা ছিল জমির মালিক ফেরদৌসি আলম নীলার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ২০১০ সালের দিকে তিনি সেখানে কিছু অস্থায়ী দোকান করে ভাড়া দেন। কিন্তু ২০১৩ সালে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য সরকার সেই জমি অধিগ্রহণ করে নেয়। এর বিনিময়ে নীলাকে পাশের একটি সরকারি প্লট দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মার্কেট স্থাপন
সরকারি জমিতে দোকান বসানোর পর রাজউক বেশ কয়েকবার তা ভেঙে দেয়। তবে ফেরদৌসি আলম নীলা তার রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মার্কেটটি টিকিয়ে রাখেন। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। তার ক্ষমতার প্রভাবের কারণেই সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা এই মার্কেটটি টিকে যায় এবং জনপ্রিয়তা লাভ করে।
নীলার খোঁজ ও পরিবারের বক্তব্য
আলোচিত সেই নীলার খোঁজে তার জন্মস্থান পূর্বাচলের ইচ্ছাপুরে গিয়ে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি স্বামীর সঙ্গে বিদেশ চলে গেছেন। তার মা লুৎফা বেগম জানান, ‘নীলা মার্কেট’ নামে কোনো মার্কেট নেই, এটি কেবল মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত একটি নাম।
অন্যদিকে, নীলার আপন ভাই ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও দাবি করেন যে সরকারি জায়গায় তার বোনের কোনো মার্কেটের অস্তিত্ব নেই। তাদের এই ধরনের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য থেকে বিষয়টি আরও জটিল মনে হয়।
তবে তাদের দাবির পরও সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এই মার্কেটটিতে এখন দোকানের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জানা গেছে, বর্তমানে একটি সমিতির মাধ্যমে দোকান থেকে চাঁদা বা ভাড়া তোলা হয়।