প্রচ্ছদ জাতীয় পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য জায়গা চূড়ান্ত

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য জায়গা চূড়ান্ত

‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ এর পাশের এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জায়গা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ এর পাশের এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জায়গা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের ১১ দিন আগে জানা গেল নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে। প্রাথমিকভাবে গণভবনের পাশেই একটি জায়গা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে স্থাপত্য অধিদফতর। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চূড়ান্ত মতামত নিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন’ তৈরির কাজ শুরু করতে চায় গণপূর্ত অধিদফতর।

নতুন বাসভবন প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা বা সংসদ ভবনসংলগ্ন স্পিকারের বাসভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান হিসেবে নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। এটি নির্ভর করবে হবু প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ওপর। তিনি চাইলে স্পিকারের বাসভবনের সঙ্গে লাগোয়া ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকেও যুক্ত করে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণ ঘিরে গণপূর্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদফতর, স্থাপত্য অধিদফতর, কারিগরি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটির দুটি সভায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে এবং বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন- এ দুটি বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্থায়ী বাসভবনের জায়গার বিষয়ে তিনটি স্থান আলোচনায় আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মত আসে গণভবনের পশ্চিম-উত্তর পাশে থাকা একটি জায়গা, যেটির অবস্থান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস লাগোয়া। সেখানে প্রায় ১৮ একর জমি রয়েছে। ওই জমির একাংশে সরকারি কর্মচারীদের পুরোনো কোয়ার্টার রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের উন্মুক্ত স্থান এবং আগারগাঁও-শ্যামলী সড়কের দক্ষিণ পাশে সংসদ ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পুরোনো কোয়ার্টার ভেঙে সেখানে বাসভবন তৈরির প্রস্তাব আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসসংলগ্ন জায়গাটি চূড়ান্ত করেন কমিটির সদস্যরা।

কমিটির সদস্য স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা নকশার কাজ শুরু করেছি। আগেভাগেই এটি করে রাখতে চাই, যাতে নতুন সরকার আসার পরই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের কাজটা গণপূর্ত অধিদফতর শুরু করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য যে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে, সেখানে আগের গণভবনের মতোই জায়গা রয়েছে। ওই জমির পুরোটা নিয়ে নকশা তৈরি করা হচ্ছে।

একজন প্রধানমন্ত্রীর যা যা প্রয়োজন হয়, এর সবকিছুই সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। মূল ভবনটি তিনতলা হবে বলে জানান তিনি।

গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, সেখানে যেহেতু বহুতল ভবন হবে না, কাজেই দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বাসভবন নির্মাণ সম্ভব।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এর এক মাস পর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে গণভবন নির্মাণ করা হয়। তবে তিনি গণভবনে বসবাস করেননি। এইচ এম এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে গণভবনকে সংস্কার করে এটিকে ‘করতোয়া’ নাম দিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। তখন তিনি গণভবন নাম পুনর্বহাল করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে সেখানে বসবাস করেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কখনো গণভবনে থাকেননি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর গণভবন সংস্কার করা হয়। ২০১০ সালের মার্চে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার গণভবনে ওঠেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত তিনি এই ভবনে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশেন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ২০১৬’ এবং মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ‘দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

আইনে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জন্য একটি সরকারি বাসভবন থাকবে, যা সরকারী ব্যয়ে সজ্জিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। যদি প্রধানমন্ত্রী নিজের বাড়িতে বা সরকারি বাসভবন ছাড়া অন্য কোনো বাড়িতে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি প্রতি মাসে এক লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া পাবেন। সেই বাড়িটি প্রধানমন্ত্রীদের বাসভবনের মর্যাদার উপযোগীভাবে সজ্জিত করা হবে এবং এর ব্যয় সরকার বহন করবে।

আরও পড়ুন
নির্বাচনে ইইউসহ ১৬ দেশ থেকে আসছে ৫৭ পর্যবেক্ষক

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনসহ তিনি যেখানে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেবেন সেই স্থানেও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন ইত্যাদি সরবরাহের সমস্ত ব্যয় সরকার বহন করবে। যদি প্রধানমন্ত্রী নিজের বাড়ি বা সরকারি বাসভবন ছাড়া অন্য কোনো বাড়িতে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি প্রতি বছর ওই বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এই আইনের অধীনে প্রাপ্ত বাড়ি ভাড়া ভাতার তিন মাসের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

যদি প্রধানমন্ত্রী নিজের বাড়িতে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই বাড়িতে গার্ডদের থাকার জন্য নির্ধারিত কোনো শেড না থাকে, তবে সরকার সেখানে একটি অস্থায়ী গার্ড শেড নির্মাণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগের পর পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে বসবাস করতে পারবেন। এ সময়েও তার ওপর কোনো ব্যয় চাপানো হবে না।

সূত্র: কালের কণ্ঠ