
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস থাকলেও এখন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ও জামায়াত জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী সারজিস আলমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক প্রধানও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিন প্রার্থীই নিজ নিজ কৌশলে প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই আসনের আটোয়ারী উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ বেশি ভোট পেয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। উপজেলাটিতে হিন্দু ভোটারের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। ফলে সাধারণ ভোটার, আওয়ামী লীগ সমর্থক, হিন্দু সম্প্রদায় ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন প্রার্থীরা। একই সঙ্গে সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলাতেও সমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এসব ভোটের বড় অংশ যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তার জয় অনেকটাই সহজ হবে।
প্রথমদিকে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরকে এগিয়ে রাখা হলেও জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইনসহ নেতাকর্মীদের সক্রিয় প্রচারে সারজিস আলমের পক্ষে সংগঠিত মাঠ তৈরি হয়েছে। এতে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন আসে এবং বিএনপি প্রার্থীর সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তবে একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থক ও হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ নওশাদ জমিরের দিকেই যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় নওশাদ জমির ও সারজিস আলমের প্রচার সমানতালে চলছে। সভা-সমাবেশে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি চলছে পাল্টাপাল্টি সমালোচনাও। নওশাদ জমিরের পক্ষে তার বাবা, পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চিনিকল মাঠে জনসভা করবেন বলে জানা গেছে।
এই আসনে আরও কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও মাঠে তাদের তেমন প্রচার চোখে পড়ছে না। তারা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের মাহাফুজার রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ফেরদাউস আলম এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সিরাজুল ইসলাম।
প্রার্থীদের কর্মব্যস্ততা থাকলেও শহর ও গ্রামে আগের মতো নির্বাচনী উৎসব দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাসও কম। অনেকে কাজের পাশাপাশি প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে ভাবছেন। একই সঙ্গে গণভোট বিষয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশির ভাগ ভোটার।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ফুটকিবাড়ি এলাকার ভোটার নিজাম ব্যাপাড়ি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও হিন্দু ভোটের বড় অংশ বিএনপির দিকে যেতে পারে।’ গরিনাবাড়ি মাটিগাড়া গ্রামের রইসুল শেখ জানান, তাদের এলাকায় ধানের শীষ ও শাপলা কলি প্রতীকের উভয় পক্ষেরই সমর্থন রয়েছে।
আটোয়ারীর হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ ভোটার ভোট দিতে যাবেন এবং নিজেদের বিবেচনায় ভোট দেবেন।’
আটোয়ারীর সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রার্থীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তেঁতুলিয়ার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পাথর শ্রমিক নেতা মুক্তারুল হক মুকু জানান, তাদের উপজেলায় বিএনপির অবস্থান শক্ত।
সূত্র : সময়ের কণ্ঠস্বর













































