
সম্প্রতি যৌথ বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। মাথায় আঘাত পাওয়ায় তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং চোয়াল ও নাকের হাড় ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার কাকরাইলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ‘মব’ উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। তবে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান আইএসপিআরের এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে এই হামলা চালিয়েছে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য।
নুরের শারীরিক অবস্থা এবং রাশেদ খানের বক্তব্য
ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নুরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আশা করা যায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন। তার হাড়ের ফাটলগুলো গুরুতর নয় এবং সময়ের সঙ্গে সেরে উঠবে।
এদিকে, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, তাদের শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর রক্তাক্ত হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই ‘মব ভায়োলেন্স’ নয়। তিনি বলেন, “যদি ‘মব’ হয়েও থাকে, সেই ‘মব’ তৈরি করেছে সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য।”
কারা এই হামলার জন্য দায়ী?
রাশেদ খান আরও বলেন, যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা ‘গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি’ নয়। তার অভিযোগ, হামলাকারীদের কেউ কেউ স্লোগান দিয়েছে যে ‘জুলাই ভরে দেওয়া হবে’। তিনি সেনাপ্রধান এবং সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর মধ্যে যেসব ‘আওয়ামী দোসরা’ রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হোক।
তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে ঢুকেও ভাঙচুর করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। রাশেদ খান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।