প্রচ্ছদ জাতীয় নির্বাচন হবে কি না, ১২ তারিখের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না:...

নির্বাচন হবে কি না, ১২ তারিখের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না: সাবেক সেনা কর্মকর্তা

আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সামরিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) রেজাউল করিম। তাঁর মতে, ১২ তারিখের সকালের আগে পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে নির্বাচন আদৌ হবে কি না।

রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচন ঘিরে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনো পক্ষ যদি মনে করে তারা নিশ্চিতভাবে জয়ী হবে, তাহলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী থাকবে। কিন্তু যদি জয়ের সম্ভাবনা কম বলে মনে হয়, তাহলে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিবেশও তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আদালতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির প্রায় ২৫ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ রয়েছে, যদিও এই সংখ্যায় কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া আরও প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪২ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসংক্রান্ত রায় আসতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিচার বিভাগের ভূমিকা প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচার বিভাগ অনেকটাই একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ও বিচারিক সিদ্ধান্তগুলোকে আলাদা করে দেখা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের হাতে থাকা সব কৌশল একসঙ্গে ব্যবহার করবে না। বরং ধাপে ধাপে তারা তাদের তথাকথিত ট্রাম্প কার্ডগুলো প্রয়োগ করবে। তাঁর মতে, বিএনপি এখনও পুরোপুরি জানে না সামনে জামায়াত আর কী কী কৌশল প্রয়োগ করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব অনিশ্চয়তা ও বিচারিক জটিলতা মিলিয়ে আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনকালীন পরিবেশ কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র: কালের কণ্ঠ