প্রচ্ছদ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধানের নতুন বার্তা

নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধানের নতুন বার্তা

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সেনাপ্রধান সভায় জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে মোট ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। কঠোর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২.৪ শতাংশ। এ ছাড়াও, লুট হওয়া ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ থেকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোটের ৫২ শতাংশ। অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান এখনো চলমান।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আশ্বস্ত করেন, নির্বাচনের সময় জনমনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি জানান, গৃহীত পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার পাবে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি না থাকে।

সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) ছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবি, র‍্যাব, কোস্টগার্ড এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সভায় জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে মিডিয়া ও প্রচারণা কার্যক্রম আজ মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়েছে।

সূত্র : আরটিভি