
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা ও পারিবারিক জটিলতা দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায় মূলত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবের কারণে। নতুন ভূমি আইনের বাস্তবতায়, যদি সঠিক দলিল-পত্র সঞ্চিত না থাকে, তাহলে শুধু জমি নয়, প্রজন্মের অর্জনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সময়মতো সচেতনতা ও দলিল সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
জমির মালিকানা নির্ধারণে দলিলের গুরুত্ব
জমি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে রেজিস্ট্রার অফিসে সম্পাদিত চুক্তিপত্রই মূল দলিল। এতে থাকে সাক্ষীর স্বাক্ষর এবং রেজিস্ট্রারের সিল। পূর্ববর্তী দলিলগুলিকে বলা হয় ‘বায়া দলিল’। জেলা রেজিস্ট্রার অফিস থেকে এই দলিলের কপি সংগ্রহ করা সম্ভব। জমির মালিক হিসেবে দলিল সংরক্ষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার।
পর্চা ও খতিয়ান
জমির খতিয়ান বা পর্চা হলো সরকারি জরিপে প্রাপ্ত ভূমি সংক্রান্ত নথির অনুলিপি। জমির মালিক পর্চা সংগ্রহের পর সেটিকে বলা হয় পর্চা। মূল দলিল ভূমি অফিসে সংরক্ষিত থাকে, যাকে খতিয়ান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
দাখিলা: খাজনার সরকারি প্রমাণ
ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা প্রদানের পর তহসিল অফিস থেকে যে রশিদ পাওয়া যায়, সেটিই দাখিলা। জমি বিক্রয়ের সময় দাখিলা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। এটি প্রমাণ করে জমিটি বর্তমানে কার দখলে আছে। খাজনা মওকুফ থাকলেও দুই টাকা দিয়ে দাখিলা সংগ্রহ করা সম্ভব।
ওয়ারিশ সনদ ও সাকসেসন সার্টিফিকেট
উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পেতে হলে ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার সনদ অপরিহার্য। ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের মেয়রের মাধ্যমে এটি ইস্যু করা হয়। আদালতের মাধ্যমে ইস্যু করা উত্তরাধিকার সনদকে সাকসেসন সার্টিফিকেট বলা হয়।
মিউটেশন বা নামজারি কপি
জমির মালিকানার পরিবর্তনের রেকর্ড হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে মিউটেশন করতে হয়। জমি বিক্রির বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত পরিবর্তনের দলিল নামজারি বা মিউটেশন বলা হয়। এটি জমির বৈধ মালিকানা প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আদালতের রায় ও ডিক্রি
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে সেই রায় বা ডিক্রি চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য হয়। এটি জমির মালিকানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র।
মৌজা ম্যাপ ও বাস্তব খণ্ডচিত্র
মৌজা ম্যাপ হলো ভূমির বিভিন্ন খণ্ডচিত্রের ভিজ্যুয়াল প্রতিচ্ছবি। জেলা প্রশাসকের অফিসে সংরক্ষিত এই ম্যাপ ফি দিয়ে সংগ্রহ করা যায়। এটি ভূমির সীমানা ও অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
জমির দখল ও ব্যবহার
জমির দখল প্রমাণের জন্য আলাদা সরকারি কাগজপত্র না থাকলেও দাখিলা বা রশিদ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। তবে বৈধ মালিকানা ভিত্তিক দখলকেই আইন স্বীকৃতি দেয়।
বর্তমান ভূমি আইনের বাস্তবতায় নিজের জমির মালিকানা, দখল ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে এই নয়টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সঠিকভাবে সংরক্ষণ অপরিহার্য। সচেতন না হলে শুধু জমি নয়, প্রজন্মের অর্জনও হারিয়ে যেতে পারে। এখনই সময় প্রয়োজনীয় দলিলগুলো প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করার, যাতে ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা মামলার ঝুঁকি কমানো যায়।
সূত্র: জনকণ্ঠ











































