
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের উপস্থিতি বিএনপিতে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কিংবা বহিষ্কৃত হয়ে বেশ কয়েকজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর পাশাপাশি জোটগত সমঝোতার মাধ্যমে মিত্রদের ছেড়ে দেওয়া আটটি আসনেও বিএনপির নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যদিও ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবে এখনো অনেক আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা মাঠে সক্রিয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব আসনে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের প্রার্থীরা শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে সবাই।
দলীয় সূত্র জানায়, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি আপাতত কঠোরতা ও সংযম—এই দুই কৌশলেই এগোচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের নানা মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। এতে কাজ না হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়। ফলে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। তবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি সফরের আগেই এসব বিষয়ে সমাধান আসবে বলে আশা করছেন বিএনপি ও মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, ‘তফসিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই বিএনপির বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে আশা করছি। সেটি না করা হলে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘বিএনপির মতো এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। প্রত্যাহারের সময়ও শেষ হয়নি। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আশা করছি, তারা প্রত্যাহার করবেন। অনেকেই ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন। আশা করি, এসব বিষয়ে খুব দ্রুতই মীমাংসা হয়ে যাবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির পদধারী অন্তত ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়াও অন্তত ২০ জনের মতো নেতা ও সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়পত্র দাখিল করেও পরে প্রত্যাহার করেছেন। তবে অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসাবে এখনো মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ২০ জনকে ‘হেভিওয়েট’ মনে করা হচ্ছে, যারা স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারে তাদের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই গুলশান কার্যালয়ে কথা বলছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটের মাঠ না ছাড়ার অবস্থানে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে ছিলেন; যে কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের আলাদা সহানুভূতি ও সমর্থন পাচ্ছেন তারা। নাটোর-১ আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে আছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে মনে করেন, নির্বাচনি মাঠে টিপুর কিছুটা শক্ত অবস্থান রয়েছে। টিপু যুগান্তরকে জানান, স্থানীয় জনগণকে তিনি কখনো ছেড়ে যাননি। এ কারণেই তাদের প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ভোটেই প্রমাণ হবে জনগণের কাছে কে বেশি জনপ্রিয়।’
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন। এই আসনে স্বতন্ত্র হিসাবে কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আন্দোলন করে জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি অর্থনৈতিকভাবে, কখনো রাজপথ ছাড়িনি। তাই আমার সঙ্গে যারা এতদিন জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে রাজনীতি করেছেন তাদের ফেলে আমি চলে যেতে পারি না। তাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।’
সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ডা. শহিদুল আলম। সেখানে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এসএ জিন্নাহ কবীর। কিন্তু তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন জেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা বুধবার স্থানীয় জয়রা এলাকায় নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখন আমি দলের নই, জনগণের প্রার্থী। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে জনগণ আমাকে বেইমান বলবে। এখন আর পিছু হটার সুযোগ নেই।’
নোয়াখালী-৬ আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসাবে পরিচিত। এ আসনটিতে এবার ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনবারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, তার স্ত্রী শামীমা আজিম ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীব তিনজনই এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। অনেকের মতে, এদের কারণে ধানের শীষের প্রার্থী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। তিনি বহিষ্কারের তোয়াক্কা না করে এখনো নির্বাচনি মাঠ রয়েছেন। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, কুমিল্লা-২ আসনে এমএ মতিনসহ আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, যাদের কারণে ধানের শীষের প্রার্থী চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা আছে।
সমঝোতা হলেও মিত্রদের ৮টি আসনে ফ্যাক্টর বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ : নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে ১৬টি আসনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। এ সিদ্ধান্তে শরিক দলগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে স্বস্তি তৈরি হলেও নির্বাচনি মাঠের বাস্তবতা এখনো ভিন্ন। এর মধ্যে আটটি আসনে বিএনপির পদে থাকা নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এ নিয়ে বেকায়দায় আছেন শরিক দলের নেতারা। বিশেষ করে, ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া যারা নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন, তারা সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে রয়েছেন। কারণ একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় নেতাকর্মীদের একটি অংশ ছুটছেন তাদের দিকে। আবার দলের আরেকটি অংশ সমর্থন করছে মিত্র দলের প্রার্থীকে। ফলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে শরিক দলগুলোর মধ্যে।
মিত্র দলগুলোর মধ্যে বগুড়া-২ আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে লড়ছেন। তার প্রতিপক্ষ হিসাবে বিএনপির শাহে আলম প্রার্থী হয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে এখনো ভোটে মাঠে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন। যদিও বহিষ্কারের আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি।
সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে জোটের একক প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে তিনি নির্বাচন করছেন দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে। কওমি মাদ্রাসা অধ্যুষিত এ আসনটিতে দলটির উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংকও আছে। অতীতে সেখান থেকে ওই দলটির প্রার্থীরাই বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড আছে। তবে এবার জোটের প্রার্থী হয়েও স্বস্তিতে নেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। কারণ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে এখনো মাঠে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মামুনুর রশিদ (চাকসু) মামুন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মুফতি জুনায়েদ আল হাবিবকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। তার পক্ষে স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ মাঠেও নেমেছেন। কিন্তু অত্যন্ত আলোচিত এই আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ফলে ওই আসনটি জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে এখন বেশ আলোচিত।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সমর্থনে লড়ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আরেক নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। অবশ্য তিনি বিএনপির একটি অংশের সমর্থন পেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে ওই আসনে মাঠে রয়েছেন বিএনপির দুই নেতা সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহে আলম। যদিও এ দুজনকে বিএনপি বহিষ্কার করেছে। কিন্তু তারপরও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি তারা।
যশোর-৫ আসনে প্রথমে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল দলের উপজেলা সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে। পরবর্তীকালে জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। দলীয় নিবন্ধন না থাকায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারছেন। তবে সেখানেও স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন ইকবাল।
ঢাকা-১২ আসনে যুগপতের সঙ্গী হিসাবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। ইতোমধ্যে বিএনপির একাংশকে নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন। তবে ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব। প্রার্থী হিসাবে টিকে থাকার প্রশ্নে নিরব এখনো অনড়। বহিষ্কারকে মেনে নিয়েই তিনি নির্বাচনে সক্রিয় থাকবেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন রাশেদ খান। দলে যোগদান করেই ধানের শীষের সমর্থন পেয়ে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন। অনেকের মতে, ফিরোজেরও স্থানীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান রয়েছে।
মিত্র দলের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন ছাড় দিয়ে বিএনপির তৃণমূলকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে হাইকমান্ড থেকে। কিন্তু এরপরও কিছু আসনে ‘বিদ্রোহী’রা তোয়াক্কা করছেন না। ফলে মাঠপর্যায়ে এখনো দ্বিধা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানোর পর কিছু এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে তারা মনে করছেন।
মিত্র দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থী মনে করেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি আরও কঠোর নির্দেশনা না দিলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হবে।
সূত্র : যুগান্তর











































