
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লিতে এক অজ্ঞাত স্থানে একটি বড় বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যক্তিগত সহকারী ও অন্যান্য কর্মী রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ভারতে পালিয়ে আসার পর গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে সামরিক বাহিনীর একটি অতিথি নিবাসে তাকে কয়েক দিন রাখা হয়েছিল। এরপরই তাকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয় দিল্লিতে। সঠিক কোথায় রয়েছেন তা গোপন রাখা হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতারা দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এ নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম আলো প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ভারত সরকার দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বিশাল একটি বাড়িতে শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে রেখেছে। শেখ হাসিনাকে সেবা ও সহায়তার জন্য সেখানে অনেকে কাজ করছেন বলেও তারা দেখেছেন। ওই বাসস্থানের নিরাপত্তাবলয়ও কয়েক স্তরে বিন্যস্ত। শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং আরাফাতের মত কয়েকজন নিয়মিত তার সঙ্গে দেখা করেন। তারা জানিয়েছেন, শেখ রেহানা হাসিনার সঙ্গে মাঝে মাঝে কয়েকদিনের জন্য অবস্থান করেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, লন্ডন থেকে যাওয়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী পার করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের হাসিনার আবাস স্থলে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাদের কাউকেই মোবাইল ফোন বা অন্যান্য সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতাদের একজন বলেন, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর নিরাপত্তা যাচাই শেষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এই দলকে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে শেখ হাসিনার বসবাসরত বাড়িতে নেয়া হয়।
আমরা শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎকালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেছি। এ সময় তাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা তার মধ্যে লক্ষিত হয়নি।
যে ৫ নেতা দেখা করেছিলেন তারা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান বলে জানানো হয়েছে। ভারতে এক সপ্তাহের সফর শেষে ২৬ জানুয়ারি তারা লন্ডন ফিরেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন। নেতারা দাবি করেছেন, শেখ হাসিনাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা তাঁর মধ্যে লক্ষিত হয়নি। তবে সামান্য একটু ওজন কমিয়েছেন বলে মনে হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের আওয়ামী লীগ নেতাদর সামনে। ভার্চুয়ালি ভাষণ দিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে কলকাতায় অবস্থানরত কয়েক জন শীর্ষ নেতার সঙ্গে একবার শেখ হাসিনা বৈঠক করেছিলেন। এই সময়ের মধ্যে শেষ হাসিনা অডিও ভাষণ দিয়েছেন ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ইমেইলে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।
সূত্র : মানবজমিন












































