প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন শুল্ক পাকিস্তানে, ট্রাম্পের বন্ধুর অবস্থা কি?

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন শুল্ক পাকিস্তানে, ট্রাম্পের বন্ধুর অবস্থা কি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল ‘লিবারেশন ডে’ ঘোষণা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariff) আরোপের ঘোষণা দেন। মূলত এরপর থেকে একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অবশেষে গত ৩১ জুলাই তিনি নতুন এক শুল্ক তালিকা প্রকাশ করেন, যেখানে ৯০টিরও বেশি দেশের ওপর ১০ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এই শুল্কনীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়ার রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর, বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে।

ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব দেশের অর্থনীতি মূলত মার্কিন বাজারমুখী রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ‘নরম শুল্ক’

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়া— মার্কিন মিত্র হওয়ায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ২৫% প্রস্তাবিত শুল্ক কমিয়ে ১৫% করতে সক্ষম হয়।

তাইওয়ান ৩২% থেকে ২০%-এ নামিয়ে আনে শুল্ক। তবে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে নতুন শুল্ক আলোচনা চলমান।

অস্ট্রেলিয়া আগের ১০% হারেই আছে, তবে নিউজিল্যান্ডে তা বেড়ে ১৫% হয়েছে।

চীন ও ভারতের জটিল সম্পর্ক

এশিয়ার পরাশক্তি চীন শুল্কের তালিকায় না থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি বন্ধ না করে বরং বিরল খনিজ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভারত ২৫% শুল্কের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও অস্ত্র কেনায় অনির্দিষ্ট জরিমানার মুখে পড়েছে। পূর্বে প্রস্তাবিত ২৭% থেকে কম হলেও, এই শুল্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।

আসিয়ান দেশগুলোর বিভক্ত প্রতিক্রিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো শুরুতে ৪৯% পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়লেও কিছু দেশ আলোচনার মাধ্যমে হার কমাতে সক্ষম হয়েছে।

ভিয়েতনাম ৪৬% থেকে ২০%

কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড — সবাই এখন ১৯–২০% হার বহন করছে।

ব্রুনেই ২৫%

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাওস ও মিয়ানমার— ৪০% শুল্কে পড়ে।

সিঙ্গাপুর অপরিবর্তিত ১০% শুল্কে রয়ে গেছে, যেহেতু দেশটি রপ্তানির চেয়ে আমদানিতে বেশি নির্ভরশীল।

পাকিস্তান পেল সবচেয়ে কম শুল্ক সুবিধা

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান সবচেয়ে কম — মাত্র ১৯% শুল্কের আওতায় এসেছে, যা ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় অনেকটাই কম। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন এবং চলতি বছরের জুনে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনাও এই ছাড়ের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

পাকিস্তানের রপ্তানির প্রায় ৬০% আসে পোশাক খাত থেকে, যার বড় অংশ মার্কিন বাজারে যায়। কম শুল্ক এই খাতকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে, বিশেষ করে যখন ভারতের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো উচ্চ শুল্কে ভুগছে।

অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি

আফগানিস্তান, ফিজি, নাউরু ও পাপুয়া নিউ গিনি — ১৫%

কাজাখস্তান — ২৫%

বিশ্লেষক ড. ডেবোরাহ এলমস (হিনরিচ ফাউন্ডেশন) মনে করেন, এই শুল্ক হারগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। প্রেসিডেন্ট যেকোনো সময় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি নিউজ