
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের কালাচাঁদপুরে বার ড্যান্সার সাদিয়া রহমান মীম হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে শিউরে উঠছেন খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং চরম আক্রোশ ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতের শরীরের উপরিভাগে ২০টিরও বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে ঘাতক মীমকে চরম যন্ত্রণা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।
ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল ঘাতক। তবে রহস্য উন্মোচনে নিহতের রুমমেটসহ ছয়জনকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করছে গুলশান থানা পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সাদিয়ার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সাদিয়ার নাভির ওপর থেকে মুখমণ্ডল পর্যন্ত অন্তত ২০টি গভীর ক্ষত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘরে থাকা সাধারণ ফল কাটার চাকু দিয়েই তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আঘাতের ধরন বলছে, খুনি ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই নৃশংসতা চালিয়েছে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের মোটিফ বা ধরন দেখে মনে হচ্ছে মীম কোনো পরিচিত মানুষের চরম আক্রোশের শিকার হয়েছেন। আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’
পুলিশ নিহতের রুমমেট নুসরাত, নুসরাতের বন্ধু লিজা, রাব্বি ও মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ছাড়া আরও দুজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
নিহত মীমের বড় বোন শাহিদা আক্তার বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার বোনের সঙ্গে কারো শত্রুতা ছিল বলে কখনও শুনিনি। কারা কীসের জন্য তাকে এতটা নৃশংসভাবে মারলো, আমি তার বিচার চাই।’
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পেশাগত কোনো দ্বন্দ্ব, প্রেমঘটিত জটিলতা অথবা পরিচিত মহলের কারো সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে। খুনি সাদিয়ার পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, বাসার ভেতর ঢুকে এমন নৃশংস হামলা চালিয়ে অনায়াসে পালিয়ে যাওয়া কোনো আগন্তুকের পক্ষে কঠিন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে মীমের গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হয়নি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই ধারালো অস্ত্রটিও।









































