
রাজশাহীতে ট্রায়াল দেওয়ার নামে প্রতারণা করে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন যুবদল নেতা এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়। দেড় মাস আগে এ ঘটনা ঘটলেও তিনি গ্যারেজ মালিককে গাড়ি ফেরত দেননি। উল্টো গ্যারেজ মালিক নূর আহমদকে তিনি প্রতিনিয়ত দলীয় দাপটে প্রাণনাশসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
তন্ময় রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বর্তমানে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ থানায় অভিযোগ দিলেও নেয়নি। এ কারণে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
বিষয়টি তিনি মহানগর বিএনপি এবং যুবদলের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েও প্রতিকার পাননি।
অবশেষে গ্যারেজ মালিক নূর আহমদ রোববার দুপুরে মহানগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মহানগরীর বন্ধগেট এলাকায় নূর আহমদের একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে তিনি গাড়ি মেরামতের কাজ করেন। পাশাপাশি বৈধভাবে গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা রয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর বিকালে নূর আহমেদের গ্যারেজে গাড়ি কেনার জন্য যান যুবদল নেতা তন্ময়। তিনি গ্যারেজে থাকা একটি জিপ (ঢাকা মেট্রো গ-০২-০৮৭০) পছন্দ করেন। এ সময় তন্ময়ের সঙ্গে গাড়ির দর-দাম ছয় লাখ টাকায় দফারফা হয়। এরপর তন্ময় গাড়িটি ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান; কিন্তু তিনি আর ফেরেননি। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর নূর আহমেদ ফোন দিলেও ধরেননি তন্ময়।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, পর দিন তন্ময়কে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি। পরে যোগাযোগ করছি। এরপর নূর আহমেদ কয়েক দিন ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। একপর্যায়ে ফোন ধরে তন্ময় বলেন, দলের চেয়ারপারসন অসুস্থ। আমি এভারকেয়ারে আছি। রাজশাহী এসে ফোন দিচ্ছি। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
রাজশাহী ফিরলে যুবদল নেতা তন্ময়কে ফোন দেওয়া হয়। এ সময় তিনি নূর আহমেদকে বলেন, তোর যা করার আছে কর। আমি যুবদলের নেতা। যা পারিস তা করে দেখা। তুই থানাতে গেলেও আমার নামে মামলা নেবে না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলব। এরপরও তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে নূর আহমেদ বলেন, আমি গত ১৪ ডিসেম্বর মহানগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা করতে যাই; কিন্তু ওসি মামলা নেননি। আসামি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আমাকে তিনি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। অবশেষে গত ২২ ডিসেম্বর সিএমএম আদালতে (রাজপাড়া) মামলা দায়ের করি। বিষয়টি মহানগর বিএনপি এবং যুবদলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে; কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
তিনি বলেন, আমি গাড়িটি মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে কিনেছি। এ সংক্রান্ত চুক্তিনামা এবং বিআরটিএর সমস্ত কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিও আছে। এর আগেও তন্ময় মহানগরীর চণ্ডিপুর এলাকার হোসেন আলী নামের এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের গাড়ি প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়কে কয়েক দফা ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তবে কয়েক দিন আগে তাকে এ বিষয়ে ফোন দেওয়া হলে সেই সময় তিনি বলেন, গাড়িটি অচল অবস্থায় নিয়েছি। তবে গাড়িটি এর আগেও এক ব্যক্তির কাছে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন; কিন্তু তাকে গাড়িটি না দিয়ে আহমেদ আবার আমার কাছে বিক্রি করেছেন। আহমেদ আমার নামে বদনাম ছড়াচ্ছেন। আমি তার বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা দায়ের করব।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যারা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হবে- তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তন্ময়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেনেছি। রাজশাহী মহানগর যুবদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবদলকে লিখিতভাবে জানাবে।







































