
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও আংশিক বিজয়নগর) আসনে বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। বিএনপির সমর্থন থাকলেও আইনী জটিলতায় নিজ দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
এদিকে দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত দুই কেন্দ্রীয় নেতা-নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও এস এন তরুণ দে। এঁদের মধ্যে রুমিন হাঁস ও এস এন তরুণ দে কলার ছড়ি প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছে।
বিগত সংসদ নির্বাচন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বরাবরই বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও জোটের প্রার্থীর বিজয় ও ভরাডুবির উভয় ইতিহাস’ই পুরাতন। বিগত ২০০১ সালে এখান থেকেই ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনী বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা’র সঙ্গে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।
এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে তাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে আসেনি বিএনপি। পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে এই আসনে প্রার্থী করা হয় তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া’কে। সে-ই নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।
তারপর ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে অংশগ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে আবারও জোটের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। এবারে শুধু সমর্থন জানিয়েই থেমে নেই বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের খেজুর গাছের পক্ষে ভোট চাইতে সরাইলে গত (২২ ই জানুয়ারি) জনসভায় এসে ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে।
তবে তারেক রহমানের আগমনে মাঠের অবস্থা বেশ খানিকটা উন্নত হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছে না জোট জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব কীংবা তার সমর্থনে থাকা কেউ-ই। এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ৯ জন প্রার্থীর মাঝে জোনায়েদ আল হাবিবের গলার কাঁটা হিসেবে দেখা যাচ্ছে বিএনপির বহিষ্কৃত দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে।
এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধাও রয়েছে বেশ আলোচনায়। জোট ও বহিষ্কৃত দুই প্রার্থীর বেড়াজালে লাঙ্গলের জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া তিনি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আশরাফ মাহদী নিজ দলীয় প্রতীক শাপলা কলি নিয়ে ছুটে যাচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তোলে ধরছেন নিজের প্রতিশ্রুতি ও আগামীর পরিকল্পনা।
সবমিলিয়ে সময় যত এগুচ্ছে জটিল হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ভোটের মাঠের সমীকরণ। সকল বেড়াজাল উপেক্ষা করে জুনায়েদ আল হাবিবের হাত ধরে আবারও কি তৈরি হবে জোটের প্রার্থী জয়ের ইতিহাস না-কি ঘরের ইঁদুরে বেড়া কাটার মতোই কোনো জটিল খেলায় সমাপ্তি হতে যাচ্ছে এই আসনের জোটের খেলা, সে-ই চিত্র দেখা যাবে আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি।
তবে রাজনীতির জটিল সমীকরণেও বিজয়ের ব্যপারে বরাবরই শতভাগ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব।
অন্যদিকে বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলছে, জনগণের পূর্ণ সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে, আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে জনগণ সেটি প্রমাণ করবে।
জনগণের সমর্থনের একই কথা বলছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এন তরুণ দে। তিনি বলেন, জনগণের অনুরোধে এলাকার স্বার্থে আমি প্রার্থী হয়েছি। কলার ছড়ি জনগণের মার্কা। আগামী ১২ তারিখ এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ও সরাইল-আশুগঞ্জের প্রার্থী হিসেবে জনগণ আমার পক্ষে রায় দিবে বলে আমি আশাবাদী।











































