
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে তার মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জামায়াতের এই নেতার মৃত্যুতে ভোট স্থগিত হবে কি না? যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করার বিষয়ে বাংলাদেশের ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২’-এ সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
আরপিও (RPO) ১৯৭২, অনুচ্ছেদ ১৭(১) এর ব্যাখ্যা:
আইনের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো ‘বৈধভাবে মনোনীত’ (Validly Nominated) প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে হবে।
আইনের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা: প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিলের ঘোষণা দেবেন।
নতুন তফসিল: সংশ্লিষ্ট আসনে নতুন করে নির্বাচনের জন্য পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হবে।
অপরিবর্তিত প্রার্থী: যারা আগে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ছিল, তাদের নতুন করে ফরম জমা বা জামানত দিতে হবে না। শুধুমাত্র নতুন প্রার্থীরা ওই আসনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: যদি সংশ্লিষ্ট আসনে বিকল্প প্রার্থী (একই দলের) থাকে অথবা মৃত ব্যক্তিটি যদি চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃত না হন, তবে নির্বাচন স্থগিত হয় না। শেরপুর-৩ আসনের ক্ষেত্রে নুরুজ্জামান বাদল যেহেতু জামায়াতের একক ও চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী ছিলেন, তাই আইন অনুযায়ী এই আসনে ভোট স্থগিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), জামায়াত মনোনীত প্রয়াত মাওলানা নুরুজ্জামান বাদল (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন (হাতপাখা), বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (কাঁচি) এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা (মোটরসাইকেল)।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে শেরপুর-৩ আসনের ঝিনাইগাতী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দিতা রানী ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রিটার্নিং কর্মকর্তার। এ বিষয়ে আপাতত আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে আসনটি ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মূল প্রার্থীর মৃত্যুতে আসনটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
সূত্র : The Daily campus













































