প্রচ্ছদ জাতীয় জামায়াত আমীরের এক্স একাউন্ট হ্যাকের রহস্য কী!

জামায়াত আমীরের এক্স একাউন্ট হ্যাকের রহস্য কী!

জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা.শফিকুর রহমানেি এক্স (সাবেক Twitter) একাউন্ট থেকে বিতর্কিত স্ট্যাটাস প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্ট্যাটাসে নারীদের কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি আংশিকভাবে দলের পক্ষ থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোলের প্রচেষ্টা। একাধিক অ্যাডমিন একাউন্ট পরিচালনা করেন। কেউ সম্ভবত ভুলে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। পরে দ্রুত এটি রিমুভ করা হয়েছে, তবে যথাযথ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের আইটি টিম হ্যাকিং নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। প্রেজেন্টেশনটি সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা সহজ ছিল না, পর্যাপ্ত প্রমাণ দেখানো হয়নি। এমনকি জামায়াতপন্থী কয়েকজনও এটি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। দলীয় ব্যাখ্যা প্রায়শই অত্যন্ত অবাস্তব যুক্তি ব্যবহার করেছে এবং প্রমাণের অভাব রয়েছে।

বিস্তারিত বিশ্লেষণে জাহেদ বলেন, স্ট্যাটাসের জন্য বিনা প্রমাণে বিএনপিকে দায়ী করা হয়েছে, যা তাঁর মতে উদ্ভট ও হাস্যকর। এই ধরনের নাটকীয়তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা, যাতে নির্বাচনী মাইলেজ বা সমর্থন বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, তিনি স্ট্যাটাসে ব্যবহৃত নারীদের নিয়ে আপত্তিকর শব্দকে “বিভৎস” বলে উল্লেখ করেছেন এবং সামাজিকভাবে এর প্রভাব বিপজ্জনক বলে মনে করেন।

তিনি আরও বলেছেন, ঘটনার টেকনিক্যাল ও কমিউনিকেশন ব্যাখ্যা দুর্বল। প্রেজেন্টেশন বা দলীয় বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায়নি। ঘটনাটি এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। অভিযোগের যথাযথ ব্যাখ্যা বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এমন স্ট্যাটাস প্রকাশ করা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং বিশেষ করে নারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি স্ট্যাটাসের উদ্দেশ্য নির্বাচনী প্রচারণার জন্য করা হয়, তবু প্রমাণ ছাড়া অন্য দলকে দায়ী করা অবিবেচক ও অনুচিত।

জাহেদ উর রহমানের বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে যে, জামায়াতের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশল এবং নাটকীয় প্রচারণার অংশ। একই সঙ্গে এটি সামাজিকভাবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং দলীয় স্বচ্ছতার অভাব প্রকাশ করেছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জনমত বিভ্রান্ত থাকলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও পরিপূর্ণ সমাধান এখনও বাকি। রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এটি আগামী দিনে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।

সূত্র : ইনকিলাব