
তিনটি মন্ত্রণালয়কে ‘দুর্নীতি থেকে বাঁচাতেই’ জামায়াতে ইসলামী থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া দুজন ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ছেড়ে যাননি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল—জামায়াতে ইসলামী এই অভিযোগ তোলার পর গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিলেন। বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করেননি? কারণ, তারা সরকারে ছিলেন এবং ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন।’
তারেক রহমানের সেই বক্তব্যের জবাবে গতকাল নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, দু-একজন নেতা এখন বলছেন, ঠিক আছে আমরা এত অসৎ ছিলাম, আপনারা এত সৎ ছিলেন, তো ছেড়ে গেলেন না কেন? আমরা ছেড়ে যাইনি এ কারণে যে, অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় বেঁচে যাক, দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক। জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বিএনপি সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও সে সময় কেউ তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি।
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের হাত ‘অবশ’ হয়ে যাবে মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ লাফ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমি রাজনীতি করব, আমি চাঁদাবাজিও করব, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না। এটা কোনো কথা! তাহলে আপনি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন। আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন এ কথা আপনাকে শুনতে হবে যে আপনি একজন চাঁদাবাজ।
জনসভায় ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে জামায়াত আমির জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচন ঘিরে আলামত ভালো নয় বলে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চতুর্দিকে বিভিন্ন মন্দ আলামত ফুটে উঠছে। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, হামলা করে মানুষ খুন করা হচ্ছে, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের কাজ করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেটি না পারলে ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে।
পরে গতকাল বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা-১৪ আসনে ১১ দল মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমানের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর মিরপুরে নিজের নির্বাচনী আসনের (ঢাকা-১৫) প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ও জামায়াতের ডিজিটাল প্রচারের জন্য ‘মাল্টি মিডিয়া বাস’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখান তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে আমাদের ভূখণ্ড বদলাবে না, আমাদের চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। গত ৫৪ বছর যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশ চালানো হয়েছে, মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুলুম করা হয়েছে। ফ্যাসিজম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে আমরা যদি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে জনগণের শাসক না হয়ে যেন সেবক হতে পারি। যার যেটা পাওনা, অধিকার, সেটি যেন তাদের ঘরে পৌঁছে দিতে পারি। আমরা একটি দায়িত্বশীল বাংলাদেশ চাই।
পরে তিনি দেশবাসীর দোয়া চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের বাস ও অন্যান্য যানবাহনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।









































