
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্ব সংস্থাটির চরম আর্থিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, সদস্য দেশগুলো বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করলে আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই জাতিসংঘের তহবিল পুরোপুরি শূন্য হয়ে যেতে পারে। ১৯৩টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটি এক ভয়াবহ আর্থিক ধসের মুখে পড়বে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী গুতেরেস তার চিঠিতে জানিয়েছেন যে, নির্ধারিত চাঁদা আদায় না হওয়ায় নিয়মিত বাজেট বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অতীতেও বিভিন্ন সময় আর্থিক সংকট দেখা দিলেও এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ এবার বড় অংকের অর্থ না দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবেই জানানো হয়েছে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও এই সংকট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্তের ফলে তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের বৃহত্তম দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একাধিক সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং শান্তিরক্ষা তহবিলসহ নিয়মিত বাজেটে অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন মনে করে যে সংস্থাটি মার্কিন করদাতাদের অর্থের অপচয় করছে এবং তাদের অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। গত জানুয়ারি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া মানবিক কর্মসূচিতেও তাদের অনুদান ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে মাত্র ২ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
মহাসচিব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী চাঁদা দেওয়া প্রতিটি সদস্য দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বকেয়া অর্থের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে যা মোট প্রাপ্যের ৭৭ শতাংশ। বিদ্যমান নিয়মের অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরে গুতেরেস বলেন যে অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিধানটি এখন একটি দুধারি তলোয়ারে পরিণত হয়েছে, কারণ বাস্তবে যে অর্থ পাওয়াই যায়নি সেটিও ফেরত দিতে বলা হচ্ছে।
আর্থিক ধস ঠেকাতে গুতেরেস সব সদস্য রাষ্ট্রকে দ্রুত পূর্ণ অর্থ পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন অথবা আর্থিক নিয়মকাঠামোতে মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা বৈশ্বিক এজেন্ডার পরিবর্তে মার্কিন স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। গাজা পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে জাতিসংঘের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির আলোচনাও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র : জনকণ্ঠ











































