
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিএনপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি ‘জাতীয় সরকার’ আদলে সর্বজনীন মন্ত্রিসভা গঠনের কথা ভাবছেন দলটি। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে বিশ্বস্ত ও যোগ্য নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান বর্তমানে মন্ত্রিসভার পরিধি ও সদস্যদের বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা বা ‘টেবিল ওয়ার্ক’ করছেন, যেখানে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আলোচনার মধ্যেই ১১-দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে ৬টি আসনে জয়ী হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১-২ জন নেতার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মূখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের যাওয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত প্রস্তাব নেই। তবে আমার ধারণা, যদি প্রস্তাব আসেও সেটা দল গ্রহণ করবে না।
আরও পড়ুন: অভিজ্ঞ-তারুণ্যের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা প্রায় চূড়ান্ত, আলোচনায় আছেন যারা
এছাড়াও দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান শবিবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে লেখেন, জোটের সিদ্ধান্ত ব্যতীত এককভাবে এনসিপি বিএনপির সাথে মন্ত্রীত্ব শেয়ার করবে না, ইনশাআল্লাহ!
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘লাশ আর রক্তের ওপর দিয়ে যারা ক্ষমতা গ্রহণ করবে’, তাদের সাথে এনসিপি যাবে না।
যদিও বিএনপির একাধিক নেতা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ‘চাপ সহ্য’ করেও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন। নতুন মন্ত্রীসভায় তারেক রহমান প্রবীণের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রাধাণ্য দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন বেশ কিছু তুলনামূলক তরুণ বয়সী নেতা।
নতুন সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বলেন, আমাদের লড়াই ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা একটি মেধা ও প্রযুক্তি নির্ভর রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘৩১ দফা’ অনুযায়ী সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হবে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’










































