প্রচ্ছদ জাতীয় এগিয়ে থাকা আসনে ফল প্রকাশে টালবাহানা করা হচ্ছে

এগিয়ে থাকা আসনে ফল প্রকাশে টালবাহানা করা হচ্ছে

বেশ কিছু আসনে ফল প্রকাশ এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা নিশ্চিত, আমাদের কাছে সাইন করা যে শিট আছে, সেখানে দেখছি আমরা এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা নিয়ে স্থানীয়ভাবে টালবাহানা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, পোস্টাল ব্যালট মিলিয়ে দেখতে হবে, একটু এই আছে, ওই আছে। এই-ওইটা কী, আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের ক্লিয়ার একটা ম্যাসেজ দিলেই আমরা বুঝতে পারব যে, আমাদের অবস্থানটা কী।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কতটি আসনে এ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, এটার সঠিক উত্তর আমাদের কাছে নেই। কারণ বেশ কিছু আসন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা আশা করছি, সরকার খুব শিগগিরই অফিশিয়াল রেজাল্ট পাবলিশ করলে আমরা আমাদের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি জাতিকে জানিয়ে দেব। তবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হবে-ইতিবাচক ধারার রাজনীতি, কল্যাণধারার রাজনীতি, দলের জন্য রাজনীতি নয়। আমরা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা-ওই রাজনীতি করব না। আমরা কোরআনের মূলনীতি অনুযায়ী ভালো কাজের সহযোগিতা করব, আর মন্দ কাজ হলে তার বিরোধিতা অথবা সহযোগিতা থেকে বিরত থাকব।

জামায়াত আমির বলেন, সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ১৩ তারিখের মধ্যে ফল দেবে। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি, সেটা দেয় কিনা। দিয়ে থাকলে ভালো, না দিয়ে থাকলে সঙ্গত সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। কিন্তু কিছু আসনে ইঁদুর-বিড়াল খেলা, এমনকি ঢাকা-৮ আসনে এখনো ঝুলে থাকবে কেন? এ বিষয়গুলো কিন্তু সুস্থধারার রাজনীতি বহন করে না, এগুলো অসুস্থধারার রাজনীতি। সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জাতিকে যতটুকু জানানোর জানাবে, যাতে ভবিষ্যতে একই মন্দ চর্চার ধারাবাহিতা না থাকে।

গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এজন্য দেশবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যদিও অফিশিয়ালি এটা ঘোষণা হয়নি, শেষ পর্যন্ত কী হয়-সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। আর সরকার গঠনের জন্য যে নির্বাচন হয়েছিল-সেখানে দুইটা জোটের মধ্যেই মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। স্বাভাবিক একটি নির্বাচন যখন হবে, তখন সবাই জিতবে না। কেউ জিতবে, কেউ হারবে-এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে কিছু সংস্কৃতি আছে, আমরা এই সংস্কৃতি পাল্টানোর পক্ষে। তবে আমাদের কিছু অবজারভেশন আছে, সেই অবজারভেশনগুলো আমরা জাতির সামনে তুলে ধরার পক্ষে। যাতে ভবিষ্যতে একই অন্যায়ের বা সীমা লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, আমরা এগুলো কম্পাইল করছি। আমরা আমাদের পরিসরে আবার বসব। আজকে এই পরিসরে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ ছিল না, কারণ এখন পর্যন্ত বেশ কিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি এবং গণনাও কমপ্লিট, কিন্তু স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং অফিসাররা ঘোষণা দিচ্ছেন না, ঝুলিয়ে রেখেছেন। আমরা বুঝতে পারছি না, এটা কেন? মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে দেখা গেল যে, কে কতটা আসন পেয়েছে দেওয়া হলো, আবার তা উধাও হয়ে গেল। আমাদের লোকদের বসিয়ে রাখা হলো দীর্ঘ সময়, এই একটু আগে একদম প্রথম পর্যায়ে ১০-১২টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা শুরু করেছে। সেটা আবার বেসরকারিভাবে। সব মিলিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না বলে আমরা দুঃখিত।

তিনি বলেন, আমরা আবার বসে বিশ্লেষণ করব, আমাদেরও কোনো ত্রুটি-ঘাটতি থাকলে সেটাও আমরা দেখব, আবার সামগ্রিক বড় কোনো ত্রুটি-ঘাটতি থাকলে সেটাও আমরা আনব। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমরা টানাটানি করব না এবং পুরানো রাজনীতিতে আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করতে চাই। রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয়, তাহলে রাজনীতিকদের একথা মেনে নিতে হবে যে, পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো নির্বাচন হয় না, রাজনীতিও হয় না।

আপনি আপনার বক্তব্য নিয়ে যাবেন, মানুষ আপনাকে যতটুকু গ্রহণ করবে তাকে আপনার অভিনন্দন জানানো উচিত। দেশবাসী আমাদের যতটুকু সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।