
২০২৪ সাল শেষে এইচএসবিসি বাংলাদেশের আমানত ছিল ২২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিম ছিল ১৮ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। ওই বছর ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা রেকর্ড মুনাফা করেছে।
ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে বলা হয়েছে, সুদের আয় বৃদ্ধি, আমানতের খরচ কমা এবং বিনিয়োগ থেকে ভালো আয় হওয়ায় রেকর্ড মুনাফা করা সম্ভব হয়েছে। আমানতের ওপর সুদ ২০ শতাংশ কমে হয়েছে ৬১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ঋণ থেকে সুদের আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। তারপরও কেনো রিটেইল ব্যাংকিং বন্ধ করা হচ্ছে সে নিয়ে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিটেইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হওয়ায় সাধারণ আমানতকারীরা কিছুটা হয়রানির শিকার হবেন। তবে বড় বিড়ম্বনায় পড়বেন ঋণগ্রহীতা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীরা। কারণ তাদের বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে হয়, এখন মাঝপথে এসে অন্য কোনো ব্যাংকে স্থানান্তর করা অনেক জটিল এবং বিড়ম্বনা তৈরি করবে। আদৌ এটা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন অনেকে।
এইচএসবিসি ব্যাংক মহামারি করোনার সময়ে থেকে নানা রকম বিতর্কের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। করোনা-পরবর্তী ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে একসঙ্গে ১১৪টি শাখার বন্ধ করে দেয়। এতে অনেক কর্মী বেকার হয়ে পড়েন। আবার ব্যাংকটির বাংলাদেশের শাখার মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছিল একসময়।
ধানমন্ডি শাখায় কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, সম্ভবত তিন শতাধিক কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছে ৩১ মার্চ আপনাদের শেষ কর্মদিবস। চাইলে আগেও রিজাইন দিয়ে চলে যেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, একেকজনকে একেক রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে আমরা যেসব বিষয়ে দাবি জানিয়েছি কর্তৃপক্ষ তা মানতে চাচ্ছে না। আমাদের দাবি-দাওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এইচএসবিসি ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের নওরিন ইসলাম জানান, বিষয়গুলো ব্যাংকের গোপনীয় তথ্য। এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই।
সূত্র : বার্তা২৪