
কোনও অর্থনীতির শক্তি কেবল উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার, বড় বাজেট বা উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণায় নির্ধারিত হয় না। নিঃসন্দেহে বলা যায়, অর্থনীতির আসল প্রাণশক্তি নিহিত থাকে বিনিয়োগের আস্থার ভেতরে। এই আস্থা যত দৃঢ় হয়, ততই অর্থনীতির গতি বাড়ে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং উৎপাদনশীলতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়। অথচ আমরা দেখতে পাই যে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সেই আস্থা গভীর সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের ধারা যেভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে, তা কেবল একটি পরিসংখ্যানগত পতন নয়, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি অশনিসংকেত।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিনিয়োগ হলো অর্থনীতির সেই চালিকাশক্তি, যা উৎপাদন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং আয়ের প্রবাহকে একসঙ্গে সচল রাখে। বিনিয়োগ কমে গেলে অর্থনীতি প্রথমে ধীর হয়, পরে স্থবিরতায় পড়ে এবং একপর্যায়ে কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকাশ পেতে শুরু করে। উল্লেখযোগ্য হলো, বাংলাদেশে বিনিয়োগ সংকট এখন আর কেবল বেসরকারি খাতের সীমাবদ্ধতার মধ্যে নেই, বরং সরকারি উদ্যোগ, নীতিগত বার্তা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এই সংকটের গভীরতা বোঝার জন্য কেবল চলতি বছরের পরিসংখ্যান নয়, বরং সাম্প্রতিক কয়েক বছরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করা জরুরি।
যেহেতু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও পুঁজিক্ষুধার্ত অর্থনীতিতে দেশীয় সঞ্চয় দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত, সেহেতু বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ অর্থনীতির জন্য বাড়তি অক্সিজেনের মতো কাজ করে। এই বাস্তবতায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৃত নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিদ্যমান উপাত্ত অনুযায়ী, মোট এফডিআই প্রবাহের একটি বড় অংশ এখন আসছে আন্তঃকোম্পানি ঋণ ও পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে, যা দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ভারসাম্য রক্ষায় বেশি ভূমিকা রাখে। এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক, কারণ প্রকৃত নতুন বিনিয়োগ ছাড়া শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কেন বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এর পেছনে কারণ হলো একাধিক স্তরের অনিশ্চয়তা। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বিনিয়োগকারীরা শুধু মুনাফার সম্ভাবনা নয়, বরং নীতির ধারাবাহিকতা, সিদ্ধান্তের পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং বাস্তবায়নের নিশ্চয়তাকে সমান গুরুত্ব দেন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে নীতি ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে বারবার পরিবর্তন, কর ও শুল্ক কাঠামোয় হঠাৎ সংশোধন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরিয়েছে। এই আস্থাহীনতা ধীরে ধীরে পুঁজি প্রত্যাহার ও নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মোটাদাগে বলতে গেলে, বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতা কেবল একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিনিয়োগ কমলে উৎপাদন বাড়ে না, উৎপাদন না বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, আর কর্মসংস্থান না বাড়লে ভোক্তার আয় ও ব্যয় সংকুচিত হয়। ফলে অর্থনীতি এক ধরনের নিম্নস্তরের ভারসাম্যে আটকে পড়ে, যেখানে প্রবৃদ্ধি সীমিত, মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক বেশি এবং আয়ের বৈষম্য ক্রমেই গভীর হয়। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ দেশটি এখনও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও বিনিয়োগ প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। যদিও অনেকেই যুক্তি দেন যে বৈশ্বিক মন্দা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ কমছে, তবুও সত্য হলো, একই বৈশ্বিক পরিবেশে কিছু দেশ বিনিয়োগ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে দেখা যায়, যেসব দেশ নীতিগত স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেরেছে, তারা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অর্থনীতি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।
তবে মনে রাখা দরকার, বিনিয়োগ সংকটের সব দায় কেবল বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর চাপিয়ে দিলে বাস্তবতার একটি বড় অংশ আড়াল হয়ে যায়। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সেবাদানের অদক্ষতাই বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহ, বন্দর ও লজিস্টিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগা বিনিয়োগের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ফলে সম্ভাব্য মুনাফা কমে যায় এবং ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়।
এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, বেসরকারি খাত কি এককভাবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে। যদিও বেসরকারি খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবুও বাস্তবতা হলো সরকারি বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা ছাড়া বেসরকারি খাত একা এগোতে পারে না। অবকাঠামো, জ্বালানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সরকারি উদ্যোগই বেসরকারি বিনিয়োগের পথ তৈরি করে। সুতরাং সরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগের আস্থা দুর্বল হলে পুরো বিনিয়োগ চক্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সবশেষে বলা যায়, বিনিয়োগ সংকটকে কেবল সাময়িক ধাক্কা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যা সময়মতো সমাধান না হলে উন্নয়নের গতি দীর্ঘদিনের জন্য মন্থর হয়ে যেতে পারে। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগের ভূমিকা অনস্বীকার্য, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ সংকটের প্রভাব সবচেয়ে গভীরভাবে এসে পড়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। যদিও অনেক সময় বলা হয় যে কর্মসংস্থান মূলত অভ্যন্তরীণ বাজার ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের ওপর নির্ভরশীল, তবুও বাস্তবতা হলো বড় আকারের, স্থায়ী এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরিতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব চিত্র বলছে, বিদেশি বিনিয়োগ শুধু সরাসরি চাকরি সৃষ্টি করে না, বরং স্থানীয় সরবরাহকারী, পরিবহন, সেবা ও আনুষঙ্গিক খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বিনিয়োগ কমে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব ধাপে ধাপে পুরো শ্রমবাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে যে গত কয়েক বছরে যুব বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিদ্যমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ কাজের বাজারে প্রবেশ করেও দীর্ঘ সময় উপযুক্ত চাকরি খুঁজে পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত হতাশা তৈরি করছে না, বরং সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। যেহেতু তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জনমিতিক শক্তি, সেহেতু তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হলে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।
যদিও কেউ কেউ যুক্তি দেন যে স্বল্পমেয়াদে উচ্চ সুদহার ও কড়াকড়ি মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, তবুও সত্য হলো এই নীতিগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিনিয়োগ আরও নিরুৎসাহিত হয়। অন্যদিকে, ব্যাংকঋণের উচ্চ ব্যয় এবং দীর্ঘসূত্রতা উদ্যোক্তাদের নতুন প্রকল্প শুরু করার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। ফলে অর্থনীতি এমন এক চক্রে আটকে পড়ে, যেখানে বিনিয়োগ না বাড়ায় উৎপাদন বাড়ে না, আর উৎপাদন না বাড়ায় মূল্যস্ফীতি ও আয় বৈষম্য নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে যায়।
বিপরীতে দেখা যায়, যেসব দেশ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল গ্রহণ করেছে এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, তারা তুলনামূলকভাবে ভালো ফল পেয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ শিল্পনীতি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। অথচ বাংলাদেশে বারবার নীতির পরিবর্তন এবং বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা তৈরি করেছে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বিনিয়োগকারীরা কাগুজে প্রণোদনার চেয়ে নীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
তবে মনে রাখা দরকার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ মানে কেবল কর ছাড় বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়। এটি মূলত একটি সামগ্রিক সংস্কৃতির বিষয়। এই সংস্কৃতির কেন্দ্রে থাকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সময়মতো সেবা প্রদান। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, বড় প্রকল্পে অনুমোদন পেতে মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর লেগে যায়। এই দীর্ঘসূত্রতা প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দেয় এবং বিনিয়োগের আর্থিক সম্ভাবনাকে দুর্বল করে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী শেষ পর্যন্ত বিকল্প গন্তব্যের কথা ভাবতে শুরু করেন।
এই জায়গায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও নতুন বিনিয়োগ আনার জন্য নানা সম্মেলন ও প্রচারণা চালানো হয়, তবুও বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে যারা ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ করেছে, তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে গতি অনেক কম। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বাস্তবতা হলো, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্টি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সবচেয়ে কার্যকর বিজ্ঞাপন। তারা সন্তুষ্ট না হলে নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও দুর্বল করেছে। যদিও ডলার সংকট একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা, তবুও মুনাফা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেয়। বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে অর্জিত মুনাফা সময়মতো দেশে ফেরত নিতে না পারার অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, বিনিয়োগ সংকট কি অনিবার্য। তবু সত্য হলো, এটি অনিবার্য নয়, বরং নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক সংকটের সময়েও যদি সরকার সুস্পষ্ট বার্তা দেয় এবং বাস্তবভিত্তিক সংস্কার শুরু করে, তবে বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে পায়। কিন্তু যদি সংকটের সময়ে বাস্তব সমস্যার বদলে অতিরঞ্জিত লক্ষ্য ও চমকপ্রদ ঘোষণা দেওয়া হয়, তাহলে সেই আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মোটাদাগে বলতে গেলে, বিনিয়োগ সংকটের মূল সমস্যাটি আস্থার জায়গায়। আস্থা তৈরি হয় ধারাবাহিক নীতি, সময়মতো সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে। এই আস্থা ভেঙে গেলে অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী খাতগুলোও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ইতিহাস বলছে, উন্নয়ন কোনও এককালীন প্রকল্প নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা, যেখানে প্রতিটি ধাপে বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, বিনিয়োগ সংকটকে শুধুমাত্র পরিসংখ্যানের ওঠানামা হিসেবে দেখলে বড় ভুল হবে। এটি মূলত ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এখন প্রয়োজন বাস্তববাদী নীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে তোলা। এই কাজগুলো কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।
শেষ কথা এই যে, বিনিয়োগের আস্থা হলো অর্থনীতির সবচেয়ে মূল্যবান মূলধন। এই মূলধন একবার হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে, পরিশ্রম লাগে এবং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছা লাগে। কিন্তু আস্থা ফিরে এলে অর্থনীতি নিজেই তার পথ খুঁজে নেয়। সারকথা হলো, উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে হলে এখনই বিনিয়োগের আস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, নইলে বড় বড় উন্নয়ন লক্ষ্য কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
তথ্যসূত্র :- বাংলাদেশ ব্যাংক, UNCTAD, World Bank, IMF, Bangladesh Bureau of Statistics, ILO










































