প্রচ্ছদ জাতীয় আমার জানামতে, মাশরাফি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসেছেন: আসিফ মাহমুদ

আমার জানামতে, মাশরাফি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসেছেন: আসিফ মাহমুদ

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতা-কর্মীদের বড় অংশ আত্মগোপনে বা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের হুইপ মাশরাফি বিন মুর্তজা দেশে থেকেই আত্মগোপনে আছেন বলে খবর। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এক মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই ক্রিকেট তারকা। আসিফ মাহমুদ ধারণা করছেন, মাশরাফি তার পূর্বের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রসঙ্গ তোলেন। সাকিব আল হাসানকে দেশে খেলার সুযোগ না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, সাকিবের বিরুদ্ধে শেয়ার মার্কেটে কেলেঙ্কারি, ফিন্যানশিয়াল ফ্রড নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে শেখ হাসিনাকে তার প্রকাশ্য সমর্থন বিষয়টি আরও আলোচিত করেছে।

সাকিব প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “প্রথমত সাকিব আল হাসানের বিষয়গুলো কীভাবে আসল? শেয়ার মার্কেটে কেলেঙ্কারি নিয়ে মামলা হলো, তারপর আরও কিছু ফিন্যানশিয়াল ফ্রড নিয়ে দুদকের মামলা চলছে, তারপর তার বাবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল এমন ভিডিও সামনে এসেছে, তার পরিবারের বিরুদ্ধেও সম্ভবত হত্যামামলা আছে। তো এগুলোর কারণে সামনে এসেছে বিষয়টা, এমন না যে আমরা পিক আপ করে নিয়ে এসেছি। আদার অ্যাক্টিভিটিস যেগুলোর কারণে বিষয়টা সামনে চলে এসেছে। এরপর ওনার শেখ হাসিনাকে এনডোর্স করার দিক দিয়ে এটা আবার আলোচিত হয়েছে।”

এরপরই মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজার বিষয়ে এমন কিছু আছে কি না, এমন আমার জানা নেই বা আমার চোখে পড়েনি। আমার জানামতে উনি ওনার যে রাজনৈতিক অবস্থান ছিল সেটা থেকেও আবার সরে এসেছেন, ফেসবুকে উনি স্পষ্ট করেছেন বলে আমার মনে পড়ে।”

তবে মাশরাফি ফেসবুকের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি। বরং গত বছরের আগস্টে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি রাজনীতিতে তার অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “যখন রাজনীতিতে ছিলাম, ক্রিকেট বোর্ডে থাকার চেষ্টা করিনি। এখন রাজনীতিতে নেই, এখন যদি বোর্ডে থাকার চেষ্টা করি বা থাকতে চাই, তাহলে কেমন হয়ে যায় না!” এই মন্তব্যে তিনি রাজনীতিতে তার সংশ্লিষ্টতাকে ‘অতীতকাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়াও, গত এক বছরে মাশরাফির কর্মকাণ্ডও তার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ইঙ্গিত দেয়। তিনি এই সময়ে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৪টি ফেসবুক পোস্ট দিলেও সেগুলোর একটিও আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত ছিল না। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান এই সময়ের মধ্যে জুয়ার ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছিলেন।

মাশরাফির বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, “এর বাইরে যদি উনি রাষ্ট্রীয় আইনে তিনি কিছু করে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতেই পারে। ওনার বিষয়টা আলোচনায় নেই, কারণ উনি তো অবসর নিয়েছেন অনেক আগে। খেলার সাথে, সংশ্লিষ্ট জিনিসের সাথে তিনি আর ইনভলভ হন নাই। যে কারণে সেভাবে আলোচনায় আসেনাই। বাকিদেরটা যেভাবে রেলেভেন্ট ছিল, তারটা সেভাবে রেলেভেন্ট ছিল না আরকি।”

সুত্রঃ দৈনিক জনকন্ঠ