
ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মমতাজের স্বামী আজিয়ার রহমান রাজধানীতে চাকরি হারিয়ে আসেন চট্টগ্রাম। নগরীর পোর্ট কলোনি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। জীবিকা উপার্জনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন রাইডশেয়ার। কিন্তু কে জানত, এ রাইডশেয়ারই থামাবে আজিয়ার রহমানের জীবনের চাকা। খুনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আজিয়ারের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইয়াছিন, উপপরিদর্শক মোহাম্মদ মনির হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স ডবলমুরিং থানাধীন পানওয়ালা পাড়া মিয়াবাড়ি আব্দুল মোতালেব নামে একটি ভবনের ৫ম তলা থেকে খুনি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খোকনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাসা থেকে পাঠাও চালক আজিয়ার রহমানের হেলমেট এবং খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।
১২ জানুয়ারি নগরীর পোর্ট কলোনি এলাকায় মহিলা মাদ্রাসার সামনে থেকে ছুরিকাঘাতে আহত আজিয়ারকে উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শুরুর আগেই মৃত্যু হয় আজিয়ারের। এ ঘটনায় নগরীর বন্দর থানায় আজিয়ারের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামি ছিল অজ্ঞাত। নিহত আজিয়ার রহমান খুলনা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
থানা সুত্র জানায়, আজিয়ার খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করার পর হত্যার রহস্য উন্মোচন এবং মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে মাঠে নেমে পড়ে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার এবং হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সঙ্গ যোগাযোগ করে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার পর অল্প টাকা দিয়ে পুরোনো একটি মোটরসাইকেল কেনেন আজিয়ার। সেটি দিয়ে রাইডশেয়ার করে পরিবার চালাতেন। প্রতিদিনের মতো হত্যার ঘটনার দিনও ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। নিহত হওয়ার আধঘণ্টা আগে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে শেষ কথা হয়। আজিয়ারের বাসায় ফিরতে কত সময় লাগবে স্ত্রী জানতে চাইলে উত্তরে আজিয়ার বলেন, আর একটি ভাড়া মেয়ে তিনি বাসায় আসবেন। তখন স্ত্রী তাকে বাসার দরজায় না নেড়ে তার মুঠোফোনে ফোন দিতে বলেন। কারণ দরজা নাড়লে তাদের দুই সন্তানের ঘুম ভাঙতে পারে।
এদিকে, হালিশহর থানা এলাকায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটলেও হালিশহর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুঞ্জন চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, খুনের ঘটনায় বন্দর থানা পুলিশ দফায় দফায় এলেও দেখা মেলেনি হালিশহর থানা পুলিশকে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, নগরীর হালিশহর থানাধীন বুইল্লার কলোনি কলাবাগান নামক স্থানে ইয়াবা সেবনকারী শহীদুল ৫০০ টাকা চায় নিহত আজিয়ারের কাছে। আজিয়ার টাকা দিতে পারবে না জানালে শহীদুল তাকে ছুরিকাঘাত করে। তখন আজিয়ার দ্রুত স্থান ত্যাগ করে মোটরসাইকেল চালিয়ে পোর্ট কানেকক্টিং রোড হয়ে যাওয়ার সময় বন্দর মহিলা মাদ্রাসার সামনে গিয়ে পড়ে যায়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, এটি একটি ক্লুলেস মামলা। ঘটনাস্থলের এক মাইল পর্যন্ত এর আশপাশে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও আসামি শনাক্ত করতে আমরা মেন্যুয়ালি তদন্ত শুরু করি। অবশেষে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা মূল হত্যাকারীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। এ মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।












































