
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া তার কড়া হুঁশিয়ারি ও চরম অবমাননাকর মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। এ বিষয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।
গোলাম মাওলা রনি তার বক্তব্যে সাদিক কায়েমের মন্তব্যকে আগামী রাজনীতির জন্য এক ‘অসহনীয় সংকেত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, তাকে লাথি মেরে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে, ঠিক যেভাবে শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করা হয়েছে। রনি বলেন, এই ধরনের শব্দ চয়ন কেবল অবমাননাকরই নয়, বরং তারেক রহমানের জন্য এটি একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।
রনি উল্লেখ করেন, সাদিক কায়েম কোনো সাধারণ ছাত্র নেতা নন; তিনি মূলত ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন প্রভাবশালী নেতা যিনি সুকৌশলে ছাত্রলীগের ভেতরে মিশে থেকে ছাত্রলীগকে ডমিনেট করেছেন। রনির মতে, সাদিক কায়েম যে মেজাজেই এই কথা বলুন না কেন, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক লক্ষ্য ও তার সংগঠনের ‘গ্রিন সিগনাল’ রয়েছে।
এই হুমকির মুখে তারেক রহমান এখন পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করছেন। তবে গোলাম মাওলা রনি মনে করেন, তারেক রহমানের এই নিরবতা বা এড়িয়ে যাওয়া বিএনপির জন্য ‘নির্বুদ্ধিতা’ হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচনের আগে হাজার হাজার ‘সাদিক কায়েম’ তৈরি হবে যারা তারেক রহমানকে গুরুত্বহীন ও মর্যাদাহীন করে তুলবে।
রাজনৈতিক এই বিশ্লেষক বিশ্লেষণ করেছেন যে, জামায়াত এবং তাদের মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে তারেক রহমানকে আক্রমণ করছে। বিশেষ করে রাশেদ প্রধান, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং মামুনুল হকদের মতো তুখোড় বক্তারা যখন জামায়াতের মঞ্চ থেকে তারেক রহমানের অতীতের নেতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরছেন, তখন বিএনপি কোনো পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানকে একজন ‘ব্যাড বয়’ বা অলিগার্ক হিসেবে উপস্থাপন করার যে ডিজাইন চলছে, তাতে বিএনপি যদি কার্যকর রাজনৈতিক জবাব দিতে না পারে, তবে তার ইমেজ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। টাইম ম্যাগাজিনে তাকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল, এখন জামায়াতও সেই একই পথে হাঁটছে বলে রনি দাবি করেন।
গোলাম মাওলা রনির মতে, ডাকসু ভিপির এই হুমকি কেবল একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি বিএনপির নেতৃত্বের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় কৌশল। আগামী দিনে বিএনপি এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।












































