
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হরিহরা গ্রামে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে এক অপ্রত্যাশিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সজল হোসেনকে তার পরকীয়া প্রেমিকা কল্পনা খাতুন বটি দিয়ে আঘাত করে গুরুতরভাবে আহত করেছেন। আঘাতের কারণে সজল হোসেনের গোপনাঙ্গ কেটে যায়। পরে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি অনুসারে জানা গেছে, কল্পনা খাতুনের (২৭) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সজল হোসেনের পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল।
কল্পনার স্বামী সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পরও এই সম্পর্ক থেমে যায়নি। এরপর গত ছয় মাস আগে সজল হোসেন পুনরায় বিয়ে করেন। মঙ্গলবার রাতে সজল হোসেন কল্পনার ঘরে ঢুকে জোর করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে নিজের নিরাপত্তার জন্য কল্পনা খাতুন বটি দিয়ে প্রতিরোধ করেন। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কল্পনা খাতুনের দুই সন্তান রয়েছে—১০ বছরের মেয়ে এবং ৬ বছরের কন্যা। কল্পনা খাতুন বলেন, “বিচ্ছেদের পরে আমার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। হঠাৎ ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করায় আমি নিজেকে রক্ষা করতে বটির কোপ দিয়েছি।” সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন। খবর পেয়ে সকালে বাড়িতে এসে পরিস্থিতি দেখেন।
তিনি বলেন, “চাচাতো ভাতিজা জোর করে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছিল।” অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সজল হোসেন এই ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন, “আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, তবে ৬ মাস আগে আমি বিয়ে করেছি। কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি থাকার কারণে সে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। রাতে আমাকে ডেকে নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।” শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
তবে ফেসবুকে খবরটি ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় গ্রামবাসী ও স্থানীয়রা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পরকীয়া ও পারিবারিক সংঘাত নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করছেন।