প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতির উত্তাপে একটি বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ দিতে হয়েছে: মঞ্জু

রাজনীতির উত্তাপে একটি বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ দিতে হয়েছে: মঞ্জু

দেশের নির্বাচনী বাস্তবতা ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিটিজেনম প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী বাস্তবতা ছোট দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন। এই বাস্তবতায় বড় দলের সঙ্গে জোট না করে ছোট দলগুলোর টিকে থাকা কঠিন। তবু নতুন জোটে যোগ দেওয়ার দায়ের ৬০ শতাংশ আমরা নিজেরাই নিচ্ছি। সাধারণ জনগণকে আমরা দোষারোপ করব না।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে প্রত্যাশা চেয়েছিলাম কারণ রাষ্ট্রব্যবস্থার এই স্রোত এবং নির্বাচন আমাদের সেখানে দাঁড়াতে দেয়নি। একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। এই সিদ্ধান্তে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। এজন্য তিনি নাগরিকদের কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।

এ সময় সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, কেন এবি পার্টি নতুন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে?

জবাবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, একটি ছোট দল হিসেবে আমাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এককভাবে করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান ও বিদ্রূপের শিকার হচ্ছেন। মানুষ আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করে বলে, সবাই মিলেও কি ১০০ ভোট পাবে? আমরা আদৌ দল গঠন বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য কি না—এমন প্রশ্ন তোলে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাসনিম জারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সবার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ থাকে না। জারার আলাদা একটি পটভূমি আছে এবং তার শক্তিশালী মিডিয়া সমর্থন রয়েছে। তারপরও তিনি এক শতাংশ সমর্থনও নিশ্চিত করতে পারেননি। যাদের এ ধরনের সুবিধা নেই, তারা চাইলেও দল ছেড়ে একা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবি পার্টি অনানুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়। এর আগে এনসিপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেয়। এতে জোটের শরিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে। মঞ্জু আসন্ন নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন।