প্রচ্ছদ জাতীয় মহিলা দলের নেত্রী ২টা একে-২২ অন্যান্য অস্ত্র সহ আটক

মহিলা দলের নেত্রী ২টা একে-২২ অন্যান্য অস্ত্র সহ আটক

শরীয়তপুরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদার এবং নড়িয়া উপজেলার রাব্বি মোড়লকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। পরে তাদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক সামগ্রী ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর আর্মি ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিঞা মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে গত ২০ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলায় একাধিক যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শরীয়তপুর সদর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ দল সদর ও নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি টমাহক শটগান, দুটি একে-২২ বোর সেমি অটোমেটিক রাইফেল, একটি একনলা বন্দুক, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৪৯ রাউন্ড গুলি, সাতটি কার্তুজসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র। এ ছাড়াও অভিযানে অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, অন্যান্য মাদকদ্রব্য, মোবাইল সিমকার্ড এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

একই সময়ে ডামুড্যা আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশের আরেকটি যৌথ দল ডামুড্যা থানাধীন একটি এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, দুটি চাপাতি, দুটি চাকু ও দুটি চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলোর বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬কে সামনে রেখে শরীয়তপুর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী ও পুলিশের এমন সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় সহিংসতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র : চ্যানেল২৪