
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৯ সালের ওই ভিডিওতে ‘বিথী’ নামের এক নারীর সঙ্গে জীবন কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। এমনকি ওই নারী একসঙ্গে থাকতে না চাইলেও আলাদা ঘরে থেকে তার সঙ্গে থাকার কথা বলতে শোনা যায় তুষারকে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৮টা ১৪ মিনিটে অভিনেত্রী নীলা ইসরাফিলের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশের পর এটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে তুষারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সারোয়ার তুষার এই মর্মে মগবাজারে দাঁড়িয়ে রাত বাজে ১১টা এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমার শুধু বিথীকেই দরকার। বিথী যদি মনে করে যে, তার সাথে থাকতে দিবে না, আলাদা ঘরে আমি থাকবো। আই অ্যাম ফাইন উইথ দ্যাট।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি চাই বিথীর সাথে থাকতে, বিথীর সাথে জীবন পার করতে; ইট ইজ আনকন্ডিশনাল, কোনো কন্ডিশন নাই। এর মধ্যে কোনো জৈবিকতা নাই; থাকতে পারে, বাট মূল ব্যাপার হচ্ছে, আই নিড হার।’
নিজের বক্তব্যের বিষয়ে তুষারকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘এবং এটা আমি অন রেকর্ড বললাম। আমি এটা প্রমাণ করব। আই উইল প্রুভ এভরিওয়ান রং; যারা বলছে যে, এগুলো ২-৩ দিন পরে…কী হয়ে যায়! আমি এগুলো রং প্রমাণ করব, বিথীর কাছে এই রেকর্ডটা থাকলো।’
নীলা ইসরাফিল জানান, ভিডিওটি ২০১৯ সালের। তবে কোন প্রেক্ষাপটে তুষার এসব বক্তব্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে ভিডিওতে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে উল্লেখ করা ‘বিথী’ হলেন বিথী সপ্তর্ষি। তিনি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, লেখক ও নারীবাদী অধিকারকর্মী। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। পরে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নেত্র নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হন।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে নীলা ইসরাফিল ও সারোয়ার তুষারের একটি দীর্ঘ ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে নীলা ইসরাফিল ফোনালাপে শোনা নারী কণ্ঠটি নিজের বলে স্বীকার করেন।
ওই ফোনালাপের সূত্র ধরে সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন নীলা ইসরাফিল। একই সঙ্গে দলীয়ভাবে বিষয়টির বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে নীলা দাবি করেন, তুষার তার ওপর মানসিক ও সাংগঠনিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় আপত্তিকর আচরণ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তুষারকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল।
বর্তমানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সারোয়ার তুষার। পাশাপাশি তিনি দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও মিডিয়া প্রধান হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।










































