
বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে পৌর শহরের ঈমান আলী সড়কে অবস্থিত তার মালিকানাধীন একটি ফার্মেসি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মামলার আসামি হওয়ায় তাকে (বজলুর) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে পাথরঘাটা পৌর এলাকার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনী আরো ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম, হৃদয় মোল্লা, ইমরান মোল্লা, এমদাদুল হক, মো. ওমরসানী, মো. মুন্না, মো. নাসির উদ্দিন, মো. মোস্তফা, তোয়া ইব্রাহিম, পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের সদস্য মো. নাসির চৌধুরী এবং ছাত্রশিবিরের নেতা আব্দুর রহমান।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাট চৌরাস্তা এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চরদুয়ানী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সরোয়ার হোসেন ফারুক এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম বেপারী গুরুত্বর আহত হন। তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় সেলিম বেপারীর স্ত্রী শাহানাজ পারভীন বাদী হয়ে ১৪ জানুয়ারি পাথরঘাটা থানায় ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বজলুর রহমান ওই মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকেও থানায় মামলা করা হয়েছিল। পাল্টাপাল্টি মামলার পর প্রশাসন বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেয়। তারপরেও পৌর জামায়াতের আমিরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।










































