
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকারের কাছে ১১ দফা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ভোটাররা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও জনগণের প্রত্যাশা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সারাদেশের ৩০০ ভোটারের ওপর জরিপটি পরিচালনা করে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল নামে একটি সংগঠন।
অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন আতিকুল ইসলাম পাঠান, ড. গাজী মিজানুর রহমান, ড. সৈয়দ শামসুদ দোহা, ড. আলমগীর রহমান প্রমুখ।
জরিপে আসন্ন নতুন সরকারের কাছে জনগণের ১১ দফা প্রত্যাশা উঠে আসে। নির্বাচিত নতুন সরকারের কোন কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তরদাতারা বলেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কারে দলের নিজস্ব ডাটাবেজ তৈরি, সরাসরি ভোটে নেতা নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে দুর্বৃত্তায়ন রোধ এবং নেতাদের জন্য প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা।
জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এমপি-মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং করার জন্য সেল গঠন এবং দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা। সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে ‘উচ্চশিক্ষা’ ও ‘সততা’—এই দুটি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানিয়েছেন ভোটাররা। এছাড়া দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন, দ্রব্যমূল্য হ্রাস, বেকারত্ব দুরীকরণ এবং কৃষি উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া।
ভোটাররা আরো চেয়েছেন, আইটি ও তৈরি পোশাক শিল্পে গুরুত্ব দেওয়াসহ শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল সংস্কার করতে হবে। জরিপে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, সবার আগে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্ব্যবহার কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ সব সেবা খাতকে দ্রুত ডিজিটালাইজেশন করার ওপর জোর দিয়েছেন উত্তরদাতারা।
এতে আরো বলা হয়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৭ শতাংশ ভোটার বিএনপির প্রতি সমর্থন জানান। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী ১৬ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে। সারাদেশের ৩০০ ভোটারের ওপর পরিচালিত জরিপটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ সাবেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত একটি গবেষক দল পরিচালনা করেন, যার মধ্যে পাঁচ জনই পিএইচডি ডিগ্রিধারী গবেষক।
আসন বণ্টনের পূর্বাভাস
জরিপে ভোটারদের পছন্দের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আসন সংখ্যার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে।
জরিপের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে , বিএনপি এককভাবে ২২০টি আসন পেতে পারে। জামায়াত পেতে পারে ৫৭টি আসন। এছাড়া জাতীয় পার্টি পাঁচটি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দুটি, স্বতন্ত্র ১২টি এবং অন্যরা চারটি আসন পেতে পারে বলে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে।
জরিপের দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল প্রস্তাবিত ‘গণভোট ও সংস্কার’ নিয়ে। এখানে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ৪৯ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। ৩০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ এবং ২১ শতাংশ ‘না’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯৯ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার বর্তমান নির্বাচনি পরিবেশকে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।








































