
আসন্ন ১৩ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেবে না এবং নির্বাচনের এই অন্তিম সময়ে তা যুক্তিযুক্তও নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন যে, নির্বাচনের মাত্র এক মাস বাকি থাকতে সরকারের সমস্ত মনোযোগ এখন একটি সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন আয়োজনের দিকে। তার মতে, বর্তমান সরকার বড়জোর একটি কাঠামো বা রূপরেখা তৈরি করে দিয়ে যেতে পারে, তবে এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এবং আর্থিক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্ববর্তী সরকারের কাজগুলো পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে ক্যাশলেস লেনদেনের গুরুত্ব তুলে ধরে গভর্নর জানান, নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হলে দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এতে বাজারে ছেঁড়া-ফাটা নোটের সমস্যা যেমন কমবে, তেমনি লেনদেনে স্বচ্ছতা আসবে। তিনি ব্যবসায়ীদের ক্যাশলেস সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের বর্তমান আমদানিনীতিকে অত্যন্ত জটিল ও সেকেলে উল্লেখ করে ড. মনসুর বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সময়মতো পণ্য আমদানি করা সম্ভব হয় না। এর ফলে বাজারে প্রায়ই সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই বাধাগুলো দূর করতে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ ও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষাণ্মাসিকের মুদ্রানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় ডেপুটি গভর্নর ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : জনকণ্ঠ







































